বানারীপাড়ার ওসি শিশির পালকে শাস্তিমূলক বদলি


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ৪:২৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি॥

সাংবাদিকদের দমন-পীড়নসহ কর্মক্ষেত্রে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিশির কুমার পালকে ঢাকা শিল্প পুলিশে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইজিপির নির্দেশেই ওসি শিশির কুমার পালকে ঢাকা শিল্প পুলিশে বদলি করা হয়েছে। এটি পুলিশের নিয়মিত বদলির একটি অংশ। এর আগে বুধবার বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে ওসি শিশিরের বদলির ওই আদেশটি এসে পৌঁছায়।

সাবেক কর্মস্থল একই রেঞ্জের উজিরপুর থানা থেকে বদলি হয়ে ২০১৯ সালের ৪ ডিসেম্বর বানারীপাড়া থানায় যোগদানের মাত্র ৮ মাসের মাথায় তাকে আবারও বদলি করা হলো। এদিকে পুলিশ সদর দফতর থেকে ওসি শিশিরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলাকালে হঠাৎ ঢাকায় বদলির বিষয়টি শাস্তিমূলক কিনা সে সম্পর্কে পুলিশের উচ্চপদস্থ এ কর্মকর্তা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্রে জানা গেছে, ওসি শিশির কুমার পালের বিরুদ্ধে থানার ভেতরে বৃদ্ধাকে মারধর ও সাংবাদিকদের দমন-পীড়নসহ কর্মক্ষেত্রে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে তদন্ত হচ্ছে। গত ১১ আগস্ট ঢাকা পুলিশ হেটকোয়ার্টার্সের এএসপি দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম ওসি শিশিরের বিরুদ্ধে তদন্তে বরিশালে আসে। ২০১৯ সালের ২৪ জুন উজিরপুরের পশ্চিম নারায়নপুর গ্রামের ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় তৎকালীন ওসি শিশির কুমার পাল মারধরের মামলা নেয়ায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে ওই তদন্ত টিম সরেজমিন তদন্তে এসেছিলো। টিম তদন্ত করে ফিরে যাওয়ার পরপরই তার বদলির এ আদেশ আসে।

জানা গেছে এর আগেও ওসি শিশির কুমার পালের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তার বিরুদ্ধে ঢাকা হেডকোয়ার্টার্স থেকে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল। যা এখনও চলমান রয়েছে। জেলা পুলিশের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছেন, ওসি শিশিরে বিরুদ্ধে তদন্তাধীন অভিযোগগুলোর যদি একটিও প্রমাণিত হয় তাহলে তিনি চাকরিচ্যুতও হতে পারেন।

ওসি শিশিরের সাবেক কর্মস্থল উজিরপুরের একাধিক বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর উপজেলার জল্লা ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু হত্যার পর ওই অঞ্চলের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন মাঠ পুলিশের এই কর্মকর্তা। ওই সময় বেশ কয়েকটি মুসলিম বাড়িতে অগ্নি সংযোগ ও লুটপাট করা হয়। এছাড়া উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের আটিপাড়া এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও তার ঘরে ডাকাতির ঘটনায় চুরি মামলা নেয়া হয়।

পরে ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়ালে ওসি শিশির বাধ্য হয়ে বাদীর দাবি অনুযায়ী গণধর্ষণ ও ডাকাতির মামলা নেন এবং সে ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে এখনও তদন্ত চলমান রয়েছে। তার বিরুদ্ধে উজিরপুরের সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও এলাকাছাড়া করার অভিযোগও রয়েছে।