বাদ যায়নি বিসিসি’র ডাস্টবিনও : নগরীতে ফুটপাথ দখলদারদের দৌরাত্ম্য

প্রকাশিত: ১১:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২০

এম. বাপ্পি ॥

নগরায়নের এই যুগে বরিশাল মহানগরীতে নির্মিত হচ্ছে একের পর এক স্থাপনা। প্রায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। আর ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখা হচ্ছে চলাচলের রাস্তা দখল করে। অপরদিকে নগরীর ফুটপাথগুলোকে এক প্রকার নিজস্ব সম্পত্তিতে পরিণত করেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ প্রতিনিয়ত অনাকাঙ্খিত ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন নগরবাসী। যদিও সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহার পূর্বে একদফা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে বিএমপি।

সর্বশেষ গত বছরের অক্টোবরে রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়ে ফুটপাথ দখলমুক্তে অভিযান চালিয়েছিল বিসিসিও। নগরবাসীও সেবারের উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তবে কিছুদিন না যেতেই পুনরায় শুরু হয় দখলদারিত্ব। বাঁশ-কাঠ-টিন তো আছেই, এমনকি বিসিসি’র-ই সরবরাহকৃত আবর্জনার ঝুড়িও ব্যবহৃত হচ্ছে দখলের কাজে। আর এমন ঘটনা ঘটছে জেলা পরিষদ মার্কেট এবং খোদ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ভবনের আশেপাশেই।

সূত্র জানায়, গত বছরের ২৮ অক্টোবর বিসিসি কর্তৃপক্ষ রাস্তা ও ফুটপাথে স্থাপনা নির্মাণ এবং নির্মাণ সামগ্রীসহ অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নেয়ার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়। সময়সীমা শেষ হবার প্রায় সাথে সাথেই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে বিসিসি। প্রায় মাসব্যাপী সেই অভিযানে সফলতাও যেমন দ্রুতই আসে, তেমনি আবার তা দ্রুতই মিলিয়ে যায় দখল দৌরাত্ম্যে।

সরেজমিনে নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণসহ মালামাল রেখে ফুটপাথ দখল করে রেখেছেন। পাশাপাশি ইট, বালু, খোয়া ব্যস্ততম রাস্তার উপর রেখে জন ভোগান্তির সৃষ্টি করছেন নির্মাণাধীন ভবনগুলোর মালিকরা। কিছু কিছু জায়গায় আবার ইট, বালু ড্রেনে নির্গত হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। এর উপর আবার বৃষ্টির কারণে পানি-কাদায় একাকার হয়ে গেছে রাস্তাঘাট। ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টিসহ পথচারীরা চলাচলের ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ফুটপাথগুলোর অবৈধ দখলকে যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে অভিজ্ঞমহল।

বিভিন্ন সময়ে হকারসহ অন্যান্য দখলকারীদের উচ্ছেদে অভিযান চালানো হলেও প্রতিবারই কিছুদিনের মধ্যে আবার দখলদারিত্ব শুরু হয়। ফুটপাথ দখল করে বসছে ভ্রাম্যমাণ বাজারও। তাই যাদের জন্য এই ফুটপাথ সেই সাধারণ পথচারীরা চলাফেরায় স্বাচ্ছন্দ্যের বদলে প্রতিনিয়ত বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। নগরীর প্রায় সর্বত্রই এমন চিত্র বিদ্যমান। কোথাও সড়কের ওপর চলছে ভবন নির্মাণ কাজ, কোথাও ফুটপাথ দখল হয়ে আছে অবৈধ দোকানপাটে।

বাজাররোডের জনৈক ব্যবসায়ী শহিদ জানান, সেখানকার ফুটপাথের অধিকাংশই এখন ব্যবসায়ীদের দখলে। কেউ টুল বসিয়ে চায়ের দোকান চালাচ্ছেন তো কেউ আবার ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করছেন। এমনকি গ্যাসের সিলিন্ডারও বিপজ্জনকভাবে ফুটপাথে রাখা হচ্ছে। এসবই ফুটপাথের চরম অরাজকতার বিষয়টি প্রমাণ করে। বিসিসি’র এ ব্যাপারে কড়া নজরদারির দাবি জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাসযোগ্য বরিশাল নগরী বাস্তবায়নে সামাজিক উদ্যোগ কমিটি (বরিশাল ডিভিশনাল শহরের মাস্টার প্ল্যান) এর সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, এ ধরনের কর্মকা- রোধে নগর ভবনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা আছে। এমন অব্যবস্থাপনারোধে বিসিসি’র পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদেরও সুদৃষ্টি দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বরিশাল ট্রাফিক বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার জাকির হোসেন মজুমদার জানান, নগরীর ফুটপাথ দখলমুক্ত রাখতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। তারা নিয়মিত অভিযানও পরিচালনা করছেন। বিষয়টিকে চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে উচ্ছেদ অভিযান আরও জোরদার করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন বরিশাল ট্রাফিক পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

Sharing is caring!