বাকেরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ ঘটনা : ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায় নি মেডিকেল রিপোর্টে

প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২০

শফিক মুন্সি ::

বাকেরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার দাবিকৃত শিশুর মেডিকেল রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে আদালতে। শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) থেকে প্রেরিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, শিশুটি ধর্ষণের শিকার নয়। নাম প্রকাশ না করার সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শেবাচিম ফরেনসিক বিভাগের একাধিক সূত্র। তবে দায়িত্বশীল কেউ এ ব্যাপারে সরাসরি বক্তব্য না দিয়ে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে নিয়েছেন। আর ১০-১১ বছরের শিশু কাউকে ধর্ষণ করার সক্ষমতা রাখে না বলেও জানিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

ফরেনসিক বিভাগের সূত্র মতে, ধর্ষণের শিকার দাবি করা একজন মানুষের দেহে যে ধরনের আলামত থাকে তার কিছুই পাওয়া যায় নি ঐ শিশুটির ক্ষেত্রে। এমনকি শরীরে উল্লেখযোগ্য কিংবা ধর্ষণের সঙ্গে মিল থাকতে পারে এমন কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় নি। শারীরিক পরীক্ষা করার পর এসব বিষয় তুলে ধরে করা রিপোর্ট হাসপাতালটির পরিচালকের কাছে সিলগালা করে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রিপোর্টের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে শেবাচিম পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন জানান, হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট তিনি সরাসরি হাইকোর্টে জমা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদানের এখতিয়ার তাঁর নেই। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানাতে পারে বলে উল্লেখ করেন এই চিকিৎসক।
তাই যোগাযোগ করা হয় বাকেরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকারের সঙ্গে। তিনি বলেন,‘বিষয়টি আগামী ২২ নভেম্বর মহামান্য আদালতের ধার্যকৃত শুনানির দিন খোলাসা হবে’। এর আগে বিষয়টি নিয়ে জানতে হলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করার পরামর্শ দেন।

তবে পুলিশের হাতে উক্ত শিশুর মেডিকেল রিপোর্টের কোন কপি আসে নি বলে নিশ্চিত করেছেন বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম। এই কর্মকর্তা বলেন,‘বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রথম রিপোর্টটি আমরা পেয়েছি। তবে শেবাচিমের রিপোর্টের কপি আমাদের দেয়া হয় নি’।
এদিকে শেবাচিমের শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডাঃ অসীম কুমার সাহা বলেন,‘ দশ বা এগারো বছরের স্বাভাবিক শিশু কখনোই ধর্ষণ করতে পারে বলে আমার অভিজ্ঞতায় এবং চিকিৎসা শাস্ত্র পড়তে গিয়ে পাইনি। শিশুর শারীরিক প্রস্তুতি ১০ থেকে ১১ বছর বয়সে হয় না। ‘ইন্টারকোর্স’ বলতে যে বিষয় রয়েছে সেটাইতো মানবদেহে এ বয়সে সঞ্চারিত হয় না। তবে এ ব্যাপারে পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট না দেখে শতভাগ নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না বলেও জানান এই চিকিৎসক।

ঘটনার মামলা সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার ও অভিযুক্ত চার শিশুর বাড়ি একই এলাকায়। গত ৪ অক্টোবর বিকেলে খেলার কথা বলে বাড়ির পাশের বাগানে নিয়ে ওই শিশুকে ধর্ষণ করে অপর এক শিশু। ধর্ষণে সহায়তা করে অন্য তিনজন।

পরদিন সোমবার রাতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিভাবকরা মঙ্গলবার সকালে তাকে নিয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখান থেকে পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ৬ অক্টোবর রাতে ধর্ষণের অভিযোগ এনে ওই চার শিশুকে আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চার শিশুকে গ্রেফতার করে। পরদিন দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল।

আদালতের বিচারক মো. এনায়েতউল্লাহ এক আদেশে আসামি চার শিশুকে যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ঐ দিন রাতে বিচারপতি মো.মজিবুর মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বসিয়ে চার শিশুকে বাড়ি পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তাদের মামলা আদালতের নির্দেশে স্থগিত আছে।

চার শিশুর স্বজনদের দাবি, মামলায় এসব শিশুর বয়স ১০ থেকে ১১ বছর উল্লেখ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের বয়স ৮ থেকে ৯ বছরের মধ্যে। ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মূলত জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।

Sharing is caring!