বাউফল থানার ওসির বিরুদ্ধে নির্যাতিত দুই পরিবারের মামলা না নেয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০

বার্তা ডেস্ক ॥ পটুয়াখালীর বাউফলে দুই নির্যাতিত পরিবার থানার ওসির বিরুদ্ধে মামলা না নেয়ার অভিযোগ করেছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বগা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের তোফায়েল মোল্লা গং ও বুলবুল চৌধুরী গংয়ের সঙ্গে জমাজমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ২ জুন মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের মহিলাসহ ৫ জন জখম হন। এর মধ্যে এক পক্ষে সেতারা বেগম ও রাইসুল এবং অপর পক্ষের শিউলি বেগম ও তুহিন বাউফল হাসপাতালে ভর্তি হন।

এ ঘটনায় শিউলি বেগমের ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে গেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর বুলবুল চৌধুরীর স্ত্রী জিনাত বাদী হয়ে বাউফল থানায় ৬ জনকে আসামী করে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় মশিউর রহমান নামের ভূমি অফিসের এক অফিস সহায়ককে আসামী করা হয়। অথচ ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থল রাঙ্গাবালী ছিলেন।

তোফায়েল মোল্লা অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী শিউলি বেগম বাউফল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মাধ্যমে থানায় অভিযোগ পাঠালেও ওসি মামলা নেননি। বেশ কয়েক দিন মামলা দায়ের করার জন্য থানায় ঘোরাঘুরির পর ওসি বলেন, উপরের নির্দেশ আছে। মামলা নেয়া যাবে না।

অপরদিকে কাছিপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন খান পূর্ব বিরোধের জের ধরে ২১ জুন বাউফল থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় কাছিপাড়া এসএম ফরিদ উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন ও তার ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা মিরাজ মোরশেদ জিসান, পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের উচ্চমান সহকারী মামুন হাওলাদার সহ গ্রামের একাধিক ব্যক্তিকে আসামী করা হয়।
মামুন হাওলাদার অভিযোগ করেন, রিয়াজ উদ্দিন খান তাদেরকে আসামী করে বাউফল থানায় মামলা করলেও ওসি রিয়াজের বিরুদ্ধে তাদের মামলাটি নেননি।

এ প্রসঙ্গে বাউফল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুটি ঘটনা পূর্ব বিরোধের জের ধরে হয়েছে। উভয় গ্রুপকে স্থানীয়ভাবে সালিস মীমাংসার জন্য বলা হয়েছে।’ এক পক্ষের মামলা নিয়ে সালিস মীমাংসা হবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘একই ঘটনায় দুই পক্ষের মামলা নেয়া যায় না।’