বাউফলে বালু সিন্ডিকেট’র কারণে ২ বছর সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ

প্রকাশিত: ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২০

বার্তা ডেস্ক ॥ পটুয়াখালীর বাউফলে বালু সিন্ডিকেট’র কারণে একটি কার্পেটিং সড়কের নির্মাণ কাজ ২ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কনকদিয়া ও কাছিপাড়া ইউনিয়নের প্রায় ৭ হাজার মানুষ। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ২০১৮-২০১৯ইং অর্থবছরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে বীরপাশা বাজার থেকে ঝিলনা লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার কার্পেটিং সড়কের নির্মাণ কাজ পায় কহিনুর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে প্রকল্পের সাইটে চাহিদা অনুযায়ী বালু সরবরাহ করা হচ্ছে না। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা যায়নি। বালু সিন্ডিকেটের বিষয়ে কোন কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কহিনুর এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন টিটু বলেন, চাহিদা অনুযায়ী যথাসময়ে বালু সরবরাহ না করায় কাজটি সম্পন্ন করতে বিলম্ব হচ্ছে। আশাকরি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বগা বন্দরের প্রভাবশালী এক আওয়ামীলীগ নেতা বালু সিন্ডিকেট করায় কোন ঠিকাদার কিংবা জনসাধারণ অন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বালু ক্রয় করতে পারেন না। ওই বালু সিন্ডিকেটের মর্জির উপর নির্ভর করে কালিশুরী, কাছিপাড়া, বগা, কনকদিয়া ও মদনপুরা ইউনিয়নের প্রায় সকল উন্নয়ন কাজ। নির্দিষ্ট সময় বালু সরবরাহ না করায় বছরের পর বছর বন্ধ থাকে নির্মাণকাজ। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বালু সিন্ডিকেটের কারণে কনকদিয়া ইউনিয়নের ওই ৩ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজও প্রায় ২ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া মদনপুরা ইউনিয়নের একটি প্রকল্প প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল। অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর ওই সিন্ডিকেট বালু সরবরাহ করায় পুনরায় ঠিকাদার প্রকল্পটির কাজ শুরু করেছেন।

এদিকে গত ২ বছর ধরে ৩ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় কনকদিয়া ও কাছিপাড়া ইউনিয়নের প্রায় ৭ হাজার মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন। কনকদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বীরপাশা গ্রামের মিলন খান বলেন, এ সড়কটি দিয়ে পশ্চিম বীরপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বীরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বীরপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারায়নপাশা দাখিল মাদ্রাসা, আয়লা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আয়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চলাচলের ক্ষেত্রে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

তিনি বলেন, সড়কের বেড কেটে রাখায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে খালে পরিণত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে আসা যাওয়ার পথে হোচট খেয়ে পড়ে আহত হয়। গত ২ বছরে অন্তত ৮ জন শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে গেছে বলে তিনি জানান।

এ প্রসঙ্গে এলজিইডির বাউফল উপজেলা প্রকৌশলী সুলতান আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, কাজটি বন্ধ থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।