বাউফলে করোনার নমুনা পরীক্ষা নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

বার্তা ডেস্ক ॥ কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা নিয়ে বিমাতাসুলভ আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখান থেকে যথাসময়ে নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য বরিশাল আরটি-পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয় না। পটুয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসে দীর্ঘসময় নমুনা ফেলে রাখায় গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের একটি সূত্র জানায়, কোভিড-১৯ নমুনা পটুয়াখালী সদর উপজেলা ভিত্তিক আরটি-পিসিআর ল্যাবে বেশি সংখ্যক পাঠানো হয়। জেলার অন্যান্য উপজেলার নমুনাগুলো কম পাঠানো হয়। আবার কোন সময় একেবারেই পাঠানো হয়না। সিভিল সার্জন অফিসে ফেলে রাখা হয়। যার ফলে সঠিক সংরক্ষণের অভাবে নমুনাগুলো নষ্ট হয়ে যায়। পরে ওই নমুনাগুলোর রিপোর্ট আর সঠিক ভাবে আসেনা।

শনিবার (২৭ জুন) পটুয়াখালী থেকে ৯১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে বরিশাল আরটি-পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে ৭৭টি নমুনাই পাঠানো হয়েছে পটুয়াখালী সদরের। দুমকি উপজেলার পাঠানো হয়েছে ২টি নমুনা। বাকি ১২টি নমুনা পাঠানো হয়েছে গলাচিপা উপজেলা থেকে। জেলার বাকি ৫টি উপজেলা থেকে কোন নমুনা আরটি-পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি। এরমধ্যে শনিবার বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১২টি নমুনা জেলা সিভিল সার্জন অফিসে পাঠানো হলেও তা ফেলে রাখা হয়। পটুয়াখালী জেলার মধ্যে করোনা আক্রান্তের দিক থেকে বাউফল দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। প্রথম অবস্থানে রয়েছে পটুয়াখালী সদর। গতকাল রোববার পর্যন্ত বাউফল উপজেলায় মোট ৫০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনার উপসর্গে মারা গেছেন ১০ জন।

বাউফল উপজেলা থেকে রোববার (২৮ জুন) পর্যন্ত মোট ৪৬৯ টি নমুনা সংগ্রহ করে আরটিপিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ওই দিন পর্যন্ত ৩৬১ জনের রিপোর্ট আসে। বাকি ১০৮টি রিপোর্টের কোন হদিস নেই।

ধারণা করা হচ্ছে, জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে নমুনাগুলো যথাসময় আরটিপিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি।

ওই অফিসের সিনিয়র ল্যাব টেকনিশিয়ান রফিকুল ইসলাম সদরের নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য অগ্রাধিকার বেশী দেন। অন্য উপজেলার অধিকাংশ নমুনা ফেলে রাখেন বা দুই থেকে একদিন পরে পাঠান। যে কারণে উপজেলার রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হয়। আবার বিলম্বে পাঠানোর কারণে অনেক নমুনা নষ্ট হয়ে যায়। যে কারণে সঠিক রিপোর্ট পাওয়া যায় না।

বাউফল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রাজশাহী থেকে নমুনা দিয়েছেন তার রিপোর্ট এসেছে নেগেটিভ। অথচ এর আগে তিনি বাউফল থেকে যে নমুনা দিয়েছেন তার রিপোর্ট এসেছে পজেটিভ। নমুনার ফলাফল নিয়েও ভুক্তভোগীদের মধ্যে অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পটুয়াখালীতে পরীক্ষার ল্যাব না থাকায় নমুনাগুলো বরিশাল কিংবা ঢাকায় পাঠাতে হয়। তাই রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে সিনিয়র ল্যাব টেকনিশিয়ান মোঃ রফিকুল ইসলাম যদি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।