বাউফলের আজাদের শখের বাগানে নানান জাতের ফল

প্রকাশিত: ৯:৪৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২০

বার্তা ডেস্ক ॥ পেশায় শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মোহসেন উদ্দিন নুরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ। তিনি গোসিংগা ছালেহিয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন জামে মসজিদের ইমাম এবং বাউফল সদর ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিষ্টার (কাজী) হিসেবেও কাজ করছেন। শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি শখ করে বাড়ির পাশে পতিত জমিতে ফলদ বাগান করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন। বর্তমানে তার শখের বাগানে শোভা পাচ্ছে দেশী ও বিদেশী নানান জাতের ফল।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০১১ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি থেকে ৪৫ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় আমি প্রথমে ২০ শতাংশ জমিতে ফলদ বাগান শুরু করি। ২ বছরের মাথায় আমার বাগানে ফল এসে যায়। প্রশিক্ষণ নিয়ে ফলদ বাগান করে সফলতা অর্জন করায় আমি ২০১৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইমাম হিসেবে পুরস্কার পেয়েছি। এখন আমার প্রায় ১ একর জমিতে ফলদ বাগান রয়েছে। সারা বছরই আমার বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ফল উৎপাদন হয়।

বর্তমানে আমার বাগানে হাড়িভাঙা, মল্লিকা, রুপালী, হিমসাগর, বারি-১ ও বারি-২ প্রজাতির আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেপে, ড্রাগন, আমড়া, বারি মাল্টা-১, লেবু, কাঠ বাদাম, থাইল্যান্ডের পেয়ারা, জাম্বুরা, ভিয়েতনাম ও ইন্ডিয়ান কেরালা প্রজাতির নারকেলসহ ৩১ প্রজাতির ফলগাছ রয়েছে। ১২ মাস ফল ধরে এমন প্রজাতির আম ও আমড়া গাছ রয়েছে এখানে। এক সময় শখের বসে শুরু করলেও এখন বাণিজ্যিক রুপ পেয়েছে আমার ফলদ বাগান। পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি ফল আমি বাজারে বিক্রি করে দেই। তিনি বলেন, অবসরে বসে না থেকে প্রতিটি মানুষের ফলদ বাগান করা উচিত। নিজের হাতে গড়া বাগানের গাছে গাছে বাহারি ফল দেখলে চোখ ও মনে প্রশান্তি আসে।

এছাড়া নিজের পরিবারের সদস্যদের পুষ্টি চাহিদা পুরণের পর ফল বিক্রি করে সচ্ছলতা আনাও সম্ভব।

বাউফলের উপ সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, আবুল কালাম আজাদ একটি ফলদ বাগান করার উদ্যোগ নেয়ার পর আমরা কৃষি অফিস থেকে তাকে একটি মিশ্র ফল বাগান করার পরামর্শ দেই। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে মিশ্র বাগান করে তিনি চমক সৃষ্টি করেছেন। এখন তাকে আমরা মডেল হিসেবে দেখি। তিনি বলেন, অনেকেই তো অলস সময় পার করছেন। অথচ আবুল কালাম আজাদ পেশাগত ব্যস্ততার ফাঁকেও বিশ্রাম না নিয়ে বাগানের পরিচর্যা করে সফলতা অর্জন করেছেন।