বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের ভুয়া ভাউচারে ৬ লক্ষ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ::

বরিশাল জেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসের ভুয়া বিল তৈরি করে নকলনবিশদের কর্ম পারিশ্রমিক’র অর্থ আত্মসাত চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল জেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস পাড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। আর এ ঘটনাটি আড়াল করতে মুহূর্তের মধ্যে জেলা সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মূল ভবনের প্রবেশদ্বার তালাবদ্ধ করে দেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে সেবাগ্রহীতাদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে।

যদিও ভুয়া বিল ভাউচারের ঘটনাটিকে কম্পিউটার মিসটেক বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন জেলা সাব রেজিস্ট্রারের প্রধান সহকারী নুসরাত জাহান। এমনকি এ ঘটনায় দায় তিনি নিজে না নিয়ে অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করেন।

নাম প্রকাশ না করে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের একাধিক নকলনবিশ জানিয়েছেন, ‘সাব রেজিস্ট্রার অফিসে কর্মরত নকলনবিশরা কর্ম পারিশ্রমিক বাবদ কিছু বিল পেয়ে থাকেন। যা দীর্ঘ দিন ধরেই নানা কৌশলে আত্মসাত করে আসছিলো একটি চক্র।

এর ধারাবাহিকতায় নকলনবিশদের পারিশ্রমিক বিল বাবদ প্রায় ছয় লক্ষ টাকার একটি ভুয়া ভাউচার তৈরি করেন জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নকলনবিশ আসাদ। যা সম্প্রতি অন্যান্য নকলনবিশসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে ধরা পড়ে যায়।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘নকলনবিশ আসাদ জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে অফিসে অনুপস্থিত নকলনবিশদের কার্যদিনে নাম উল্লেখ ও বিল তৈরি করে দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে স্বাক্ষর করিয়ে তা ব্যাংকে জমা দিয়ে বিল উত্তোলন করেন। পরবর্তীতে ওই পারিশ্রমিক বিল সংশ্লিষ্ট নকলনবিশরা উত্তর করতে গেলে আসাদের জালিয়াতি ধরা পড়ে যায়। বিষয়টি অন্যান্য নকলনবিশদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে হট্টগোল বেধে যায়। সৃষ্টি হয় উত্তপ্ত পরিবেশ।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত আসাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ছুটি থাকায় জেলা রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহা’র বক্তব্য জানা যায়নি।
তবে সাব রেজিস্ট্রারের প্রধান সহকারী নুসরাত জাহানের কাছে জানতে চাওয়া হলে প্রথম দিকে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে অবশ্য সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা কম্পিউটারের ভুল হয়তো’। তবে গত কার্যদিবসে আমি নিজেও ছুটিতে ছিলাম, তাই এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার স্যার বলতে পারবেন। তবে মোট কত টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে সে বিষয়ে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, ‘যে টাকা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে তা আসাদ এবং পিওনকে দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইউসুফ আলী মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে রোববার অফিস খোলার তারিখে ঘটনাটি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাব রেজিস্ট্রার অফিসের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ‘দীর্ঘ দিন ধরেই সরকারি এই দপ্তরটি’র সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। যা বছরের পর বছর চলে আসলেও প্রতিরোধে কেউ এগিয়ে আসেনি। এমনকি সম্প্রতি প্রায় ছয় লক্ষ টাকা আত্মসাত চেষ্টার যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটাও ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। এর পেছনে দপ্তরটির দায়িত্বশীলরাও জড়িত রয়েছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।