বরিশাল-লেবুখালী মহাসড়কের দুই পাশে সড়ক ও জনপথের লাল ক্রসে জনমনে আতঙ্ক

প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

বায়েজিদ বাপ্পি ,বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি ॥

বরিশাল টু লেবুখালী মহা সড়কের দুই পাশে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষের লাল ক্রসে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বরিশাল-কুয়াকাটা মহা সড়ক দুই লেন থেকে চার লেন করার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে শুরু হয়েছে সড়ক ও জনপথের জমি উদ্ধার। বুধ ও বৃহস্পতিবার থেকে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা/কর্মচারীরা বরিশাল টু লেবুখালী মহসড়কের রাস্তার দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে বলে লাল ক্রস দিচ্ছেন।

বর্তমানে দেশে চলছে করোনা মহামারী অন্যদিকে বন্যা প্লাবিত দক্ষিণাঞ্চল। এমন পরিস্থিতিতে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষের লাল ক্রসে প্রায় ২ হাজারের অধিক মানুষ ব্যবসায়িক, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলার দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে গেছেন।

জানা যায়, বরিশাল টু লেবুখালী মহা সড়কের দুই পাশে রয়েছে বাখরকাঠী স: প্রা: বি:, বোয়লিয়া বাজার, বোয়ালিয়া গোহাট, মসজিদ ও মন্দির, রেন্ট্রিতলা এতিমখানা ও জৈনপুরী খানকা, আউলিয়াপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মুল ভবন,ইসলামিয়া মহিলা কলেজ, ভেলুখা জামে মসজিদ, মুজাহিদা জামে মসজিদ, নাথবাড়ী মন্দির, সরকারি বাকেরগঞ্জ কলেজ জামে মসজিদ, হাওলাদার ফিলিং ষ্টেশন, পৌর মার্কেট, কাঁচা বাজার ও বাস টার্মিনাল, বাসস্ট্যান্ড আল-আমিন জামে মসজিদ, সরকারি কলেজ ছাত্রাবাস, কারিতাস টেকনিক্যাল স্কুল, সৈয়দ ফজলুল করিম এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং, ৩টি পৌর পাবলিক টয়লেট, যুব উন্নয়ন বাউন্ডারী, চৌমাথা জামে মসজিদ, বটতলা জামে মসজিদ, লক্ষ্মীপাশা প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুধলমৌ মা: বি:, গাজী বাড়ি জামে মসজিদ। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

আরও জানা যায়, কিছুদিন আগে বাকেরগঞ্জ শ্রীমন্ত নদীর উপর ব্রীজ ও মহাসড়কের কাজ চলার সময় মহাসড়ক থেকে দু’পাশের দোকানপাট ২০ ফুট সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অথচ চার লেন করার প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু হতে অনেক সময় লেগে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে তাদের পথে বসা ছাড়া অন্য কোন উপায় থাকবে না। এসব দোকান মালিকরা ব্যাংকসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে কোন রকম ব্যবসা করছেন। উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

এ বিষয়ে চা দোকানদার সালাম, বাবুল, জব্বার, তপনসহ অনেকেই জানিয়েছেন, চায়ের দোকান দিয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা ও পরিবারের খরচ জোগার করেন। দোকানের পিছনে এ পর্যন্ত অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এ মুহূর্তে যদি উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয় তাহলে আমাদের পরিবার নিয়ে পথে বসা ছাড়া অন্য কোন উপায় থাকবে না।

এ বিষয়ে মুদি দোকানদার মামুন জানান, আমার মুদি দোকানটির মালামালসহ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছি। রোডস্ অ্যান্ড হাইওয়ের লোকজন কিছুদিন আগেও উচ্ছেদ অভিযান করেছে, তখন অনেক দোকানপাট তারা ভেঙে ফেলেছে। এখন আবার লাল রং দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ।

যদি উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয় তাহলে দোকান ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন, সেদিকে লক্ষ্য রেখে তাদের অন্যত্র স্থানান্তর না করা পর্যন্ত যাতে উচ্ছেদ না করা হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ এবং প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি কামনা করছেন ব্যবসায়ীরা।

Sharing is caring!