বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হলো নির্বাচনী হাওয়া

প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সমিতি ও পরিষদগুলোতে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। চলতি (ডিসেম্বর) মাসে নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেউ কেউ। বাকিরা সম্পন্ন করেছেন বার্ষিক সাধারণ সভা কিংবা নির্বাচন কমিশন গঠনের কাজ।তবে বর্তমান মহামারি পরিস্থিতিতে কিভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করবেন সে ব্যাপারে উপাচার্য ড.মোঃ ছাদেকুল আরেফিনের পরামর্শের জন্য অপেক্ষা করছেন অনেকে। আর এসব নির্বাচন ঘিরে সেখানকার শিক্ষার্থীরাও রাখছেন নিয়মিত খোঁজ খবর।

 

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচন প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেখানকার কর্মকর্তা পরিষদ নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছে গত মাসে। গ্রেড ১১ থেকে ১৬ এবং গ্রেড ১৭ থেকে ২০ কর্মচারীদের দুটি সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এদের মধ্যে ১১ থেকে ১৬ গ্রেডের বর্তমান কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে আগামী ১২ ডিসেম্বর। অন্যদিকে দুই বছর পর এবার নির্বাচন করতে যাচ্ছে গ্রেড ১৭ থেকে ২০ কর্মচারীদের সংগঠনটি।

 

বিগত দিনে দেখা গেছে এসব সংগঠনের নির্বাচনে বিভিন্ন প্যানেল অংশগ্রহণ করেছে। তবে প্রতিটি প্যানেলই নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের এবং আওয়ামী আদর্শের বলে দাবি করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন এসব সংগঠনের অনেকে। তাই শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের এসব সংগঠনের নেতৃত্ব নিয়ে আলাদা আগ্রহ রয়েছে ছাত্র সংগঠন গুলোর প্রতিনিধি সহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের। এমনকি এসব সংগঠনের সাথে সাথে ছাত্র সংসদের দাবিও তোলেন কেউ কেউ।

এ ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির সাধরণ সম্পাদক খোরশেদ আলম জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতিবছর ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের নির্বাচন সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে। সেই আলোকে গত ২৯ নভেম্বর সাধারণ সভা করে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন তারা। তবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশন বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিকে নির্বাচন থেকে আপাতত বিরত থাকতে বলেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান জানান, গত নভেম্বরের ২৩ তারিখ বার্ষিক সাধারণ সভা করে তিন সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে তাদের। এখন তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন সম্পন্ন করার দায়িত্ব কমিশনের।

 

এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ – পরিচালক হুমায়ুন কবির জানান, উপাচার্য ড. মোঃ ছাদেকুল আরেফিনের পরামর্শ গ্রহণ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করবেন তারা। চলতি মাসে নির্বাচন সম্পন্ন করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে ১১ থেকে ১৬ গ্রেড কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুজ্জামান বলেন,‘আগামী ১২ ডিসেম্বর আমাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে। এরই মধ্যে আমরা পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের পেপার ওয়ার্ক সম্পন্ন করেছি। আশাকরি দ্রুত সাধারণ সভা আহবান করে নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পারবো’।
আর ১৭ থেকে ২০ গ্রেড কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি হাসান উজ্জামান জানান, আগামী ৭ ডিসেম্বর তারা সাধারণ সভা করে দায়িত্ব হস্তান্তর ও নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। পরবর্তী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তাদের নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সংসদের ভিপি আলীম সালেহী বলেন,‘পেশাজীবী এসব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ যেন সত্যিকার শিক্ষার্থী বান্ধব হন এটা সকল সাধারণ ছাত্র – ছাত্রীর প্রাণের দাবি। একই সঙ্গে আমরা চাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় গুলো এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ভাবে ছাত্র সংসদ (বাকসু) নির্বাচন দেয়া হোক’।