বরিশাল বিভাগের ৮ পৌরসভায় ফের নৌকার বিজয়

প্রকাশিত: ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও গৌরনদীসহ বিভাগের আটি পৌরসভার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতিও বেশি ছিল। যার মধ্যে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

এদিকে, সারা দেশের সাথে তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত বরিশাল বিভাগের আটটি পৌরসভা নির্বাচনে আটটিতেই আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। দু-একটিতে বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি’র থেকে বেশী ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ‘বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী কামাল উদ্দিন খান ১০ হাজার ১৫১ ভোট পেয়ে তৃতীয় বারের ন্যায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছে।

 

এ পৌরসভায় ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন খোকন পেয়েছেন ২ হাজার ৪৪১ ভোট। এছাড়া ২ হাজার ৪২৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থী জিয়াউদ্দিন সুজন। আমাদের মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বেসরকারি ফলাফলে কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হয়েছেন ১নং চরহোগলা ওয়ার্ডে আবদুল মোতালেব জাহাঙ্গীর, ২নং সোনামুখি ওয়ার্ডে এসএম শাহজাহান সোহেল মোল্লা, ৩নং অম্বিকাপুর ওয়ার্ডে সোয়েব হোসেন সোহরাব, ৪নং দূর্গাপুর ওয়ার্ডে মশিউর রহমান নাদিম, ৫নং কালিকাপুর ওয়ার্ডে সরদার সাইফুল ইসলাম, ৬নং খরকি ওয়ার্ডে সাইদুর রহমান মনির, ৭ নং বদরপুর ওয়ার্ডে সাইফুল ইসলাম বেপারি, ৮ নং বদরপুর – চুনা-গোবিন্দপুর ওয়ার্ডে নুরুল হক জমাদ্দার, ৯নং চুনারচর ওয়ার্ডে আঃ রাজ্জাক মনির জমাদ্দার।

অপরদিকে গৌরনদী পৌরসভায় তৃতীয় বারের ন্যায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হারিছুর রহমান হারিছ। তিনি পেয়েছেন ২১ হাজার ৪৩০ ভোট।

 

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থী জহির সাজ্জাদ হান্নান। তিনি পেয়েছেন ৬শ ৩৫ ভোট। যদিও ভোট শেষ হওয়ার আগেই অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

 

গৌরনদী পৌরসভায় মোট ভোটার ৩৩ হাজার ৪০৮ জন। যার মধ্যে নারী ভোটার ১৬ হাজার ৬০৯ জন এবং পুরুষ ১৬ হাজার ৭৯৯ জন। ১৪টি ভোট কেন্দ্রে’র ৯৬টি কক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ভোটাররা।

 

অপরদিকে, ‘ঝালকাঠি জেলার নলছিটি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ কবির খান ১৪ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মাদ শাহজালাল। তিনি পেয়েছেন ৯২৪ ভোট। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৩৭৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থী মজিবর রহমান। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী কে.এম মাসুদ পেয়েছেন ৩২৮। এ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ হাজার ১০১ জন। যার মধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৫০ জন এবং নারী ভোটার ১২ হাজার ৫১ জন। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ১৩টি এ পৌরসভার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের নলছিটি প্রতিনিধি জানান, কাউন্সিলর নির্বাচনে ১নং ইউনিটে পলাশ তালুকদার, ২নং ইউনিটে মো. নূরে আলম, ৩নং ইউনিটে মো. রেজাউল ইসলাম চৌধুরী, ৪ নং ইউনিটে তাজুল ইসলাম চৌধুরী দুলাল, ৫নং ইউনিটে মামুন মাহমুদ, ৬নং ইউনিটে মো.ফিরোজ আলম খান, ৭নং ইউনিটে শহিদুল ইসলাম টিটু, ৮নং ইউনিটে আবদুল্লা আল মামুন লাভলু , ৯নং ইউনিটে মো. মানিক হাওলাদার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। সংরক্ষিত আসনে খাদিজা পারভীন, দিলরুবা বেগম ও নুরুন্নাহার বেগম কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।

 

এ নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এছাড়ও সাধারণ কাউন্সিলর ৪০ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ১৩ জন নির্বাচনে লড়াই করছেন। পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছে ২৪ হাজার ১০১ জন। এর মধ্যে ১২ হাজার ৫০ পুরুষ ও ১২ হাজার ৫১ জন নারী। নির্বাচনে বহিরাগতদের কেন্দ্র দখল, অনিয়ম, ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট কেড়ে নেওয়াসহ নানা অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী (সতন্ত্র) কে এম মাছুদ খান ও বিএনপি মনোনিত মেয়র প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান নির্বাচন বর্জন করেছেন। শনিবার সকাল ১০টায় এক ভিডিও বার্তায় মাছুদ খান ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। নির্বাচন একপেশে হচ্ছে জানিয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান বেলা ১২টার দিকে ভোট বর্জন করেন। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করে আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী আঃ ওয়াহেদ খান বলেন, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘেœ ভোট দিয়েছেন। পরাজয় বুঝতে পেরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেছেন।

 

অপরদিকে, বরগুনা সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজ মহারাজ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র শাহাদাত হোসেন ৬ হাজার ১৭৭ ভোট। পাথরঘাটা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন আকন বিজয়ী হয়েছেন।
ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এ পৌরসভায় বিএনপি’র প্রার্থী হুমায়ুন কবির দ্বিতীয় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সালাম তৃতীয় অবস্থানে আছেন।

 

অপরদিকে দৌলতখান পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকির হোসেন তালুকদার ৫ হাজার ৮৩০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন কাকন পেয়েছেন ৮৪০ ভোট।

 

আমাদের প্রতিনিধি জানান, কমিশনার হিসেবে ৯ ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন পৌর ১নং ওয়ার্ডের সিরাজুল ইসলাম, ২ নং ওয়ার্ডের আলমগীর হোসেন, ৩ নং ওয়ার্ডের মোঃ হাসান, ৪ নং ওয়ার্ডের মোঃ নুরুল ইসলাম, ৫ নং ওয়ার্ডের ফয়েজুল্লাহ ফয়েজ , ৬ নং ওয়র্ডের মোঃ জাকির, ৭নং ওয়ার্ডের মোঃ মোসলেউদ্দিন, ৮নং ওয়ার্ডের নুরে আলম ও ৯নং ওয়ার্ডের মোঃ রিপন।

 

এদিকে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. গোলাম কবির (নৌকা) ৩ হাজার ৯৫২ ভোট পেয়ে বে-সরকারি ভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহমুদুর রহমান খান (মোবাইল ফোন) ৩ হাজার ১৪৪ ভোট পেয়েছেন। এছাড়াও বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ (নারিকেল গাছ) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৯৯৪ ভোট, বিএনপি’র প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ (ধানের শীষ) প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭৪ ভোট, আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শিশির কর্মকার (জগ) প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩৪ ভোট ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ ভোট।