বরিশাল নগরীতে উগ্রবাদী হামলার আশঙ্কা

প্রকাশিত: ১১:০৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥

বরিশাল নগরীতে যেকোনো মুহূর্তে উগ্রবাদী হামলা বা নাশকতার আশঙ্কা করা হয়েছে।  সোমবার বিকেল থেকে বরিশালের স্থানীয় কিছু গণমাধ্যমে এ ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশ শুরু হয়। এসব গণমাধ্যম দাবি করে, আন্তর্জাতিক একটি উগ্রবাদী সংগঠনের বাংলাদেশী তৎপরতার অংশ হিসেবে এমন কোন ঘটনা ঘটতে পারে। এক্ষেত্রে বরিশাল নগরীতে হঠাৎ পুলিশ চেকপোস্ট ও টহল বেড়ে যাওয়া এমন আশংকাকে সম্ভাব্যতার আকার দিয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসআই) বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা, স্থানীয় পুলিশের একটি সূত্র ও কয়েকটি গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, উগ্রবাদী হামলা ও নাশকতা মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থান নিতে গত ১৯ জুলাই রাজধানী ঢাকার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে চিঠি পেয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সকাল ৬টা থেকে ৮টা অথবা সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে হামলা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে পুলিশ সদস্য, পুলিশের স্থাপনা ও যানবাহন, স্থানীয় বিমানবন্দর, বরিশালে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও মিয়ানমার বা এসব দেশের নাগরিক এবং শিয়া ও আহমদিয়া মসজিদ, মাজারকেন্দ্রিক মসজিদ, মন্দির, চার্চ ও প্যাগোডার উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, হামলাকারীর সম্ভাব্য বয়স হতে পারে ১৫ থেকে ৩০ বছর। হাতে তৈরি সময় (টাইম) কিংবা দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা, ক্ষুদ্রাস্ত্র কিংবা ছুরি-চাপাতি দিয়ে হামলা হতে পারে। চিঠিতে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে, উগ্রবাদীরা পুলিশের পোশাক পরে তাদের স্থাপনায় প্রবেশ করতে পারে। তাই পোশাক পরা থাকলেও যেকোনো দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যের পরিচয় নিশ্চিত হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে উক্ত চিঠিতে।

এমন চিঠি পাওয়ার পর থেকে নাকি বরিশাল নগরীর চেকপোস্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। টহল টিমের তৎপরতা বাড়িয়ে চিঠিতে উল্লেখিত স্থানসমূহে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া বরিশাল নগরীর আমতলা মোড় এলাকায় অবস্থিত নগর পুলিশের হেডকোয়ার্টারে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এসব ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান জানান, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যাও নয় আবার পুরোপুরি সত্যিও নয়। তিনি বলেন, উগ্রবাদী ও অতি মৌলবাদী তৎপরতা কিংবা নাশকতার বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থানে থাকতে সবসময়ই উপর মহল থেকে আমাদের কাছে নির্দেশনা আসে। এক্ষেত্রে ঢাকা থেকে পাঠানো চিঠি নতুন বা বিশেষ কিছু নয়।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে নগরজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের টহল টিম ও চেকপোস্টগুলো অতিরিক্ত সক্রিয় রাখা হচ্ছে। এছাড়া সাদা পোশাকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ কেন এমন নিরাপত্তা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হলো সে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান এই কর্মকর্তা।

Sharing is caring!