বরিশাল টাকা ফেরত দেয়া পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে

প্রকাশিত: ৫:১৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০১৯

সততার জন্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এটিএসআই মো. ইউসুফকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান তাকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন।বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) খায়রুল আলম জানান, বুধবার সকালে এটিএসআই মো. ইউসুফ নগরীর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বান্দরোডে ডিউটিরত ছিলেন। এ সময় মো. ইউসুফ সড়কে একটি প্যাকেট কুড়িয়ে পান। পাশের এক চায়ের দোকানদারের কাছে প্যাকেটটি কে ফেলে গেছে-তা জানতে চান মো. ইউসুফ। তবে দোকানদার এ বিষয়ে কিছুই জানেন বলে জানান। এসময় এক পথচারী প্যাকেটটি হাতে নিয়ে দেখেন ও কৌশলে চলে যেতে চাইলে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয় ইউসুফের কাছে। প্রকৃত মালিক না বুঝতে পেরে ইউসুফ তার কাছ থেকে প্যাকেটটি নিয়ে নেন।

পরে পুলিশ কর্মকর্তা ইউসুফ প্যাকেট খুলে ভেতরে ব্যাংকের দুটি চেক, দুটি এটিএম কার্ড, নগদ ৪৬ হাজার ৫০২ টাকা ও কিছু কাগজপত্র দেখতে পান। এছাড়া প্যাকেটের মধ্যে থাকা একটি ক্যাশ মেমোর সাহায্যে এর আসল মালিককের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট দোকান থেকে সংগ্রহ করে আসল মালিককে মুঠোফোনে দেখা করতে অনুরোধ করেন। পাশাপাশি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন।

উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) খায়রুল আলম জানান, প্যাকেটটির প্রকৃত মালিক নগরীর কাশিপুর এলাকার ব্যবসায়ী মাহাবুব সিকদার দুপুরে ট্রাফিক আসেন। এরপর প্যাকেটটি তার নিশ্চিত হয়ে মাহাবুব সিকদারের কাছে তা ফিরিয়ে দেয়া হয়।উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) খায়রুল আলম জানান, বিষয়টি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খানকে জানানো হয়েছে। তিনি সততার জন্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এটিএসআই মো. ইউসুফকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

প্যাকেটের মালিক মাহাবুব সিকদার জানান, অনেক কাগজপত্রের মধ্য থেকে টাকা ভর্তি প্যাকেটটি মেডিকেলের সামনে পড়ে যায়। এছাড়া প্যকেটটিতে ব্যাংকের দুটি চেক, দুটি এটিএম কার্ড, নগদ ৪৬ হাজার ৫০২ টাকা ও কিছু কাগজপত্র দেখতে পান। এটিএম কার্ড দুটির অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ছিল। চেক দুটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মেডিকেলের সামনে হারানো টাকা কখনও ফিরে পাবো তা কখনও ভাবিনি। পরে নম্বর পেয়ে আমার মুঠোফোনে কল দিয়ে প্যাকেটটি ফেরত দেন পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইউসুফ। তার কথা আমার চিরদিন মনে থাকবে। রাস্তায় এত টাকা কুড়িয়ে পেয়েও আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ইউসুফ।

এটিএসআই মো. ইউসুফ জানান, টাকাটা আমি হাতে না নিলে হয়তো অন্য কেউ নিয়ে যেত। পুলিশের দায়িত্বই হচ্ছে জনগণের জান-মাল রক্ষা করা। আমি শুধু আমার কর্তব্য পালন করেছি। প্রকৃত মালিককে টাকাটা ফেরত দিতে পেরে বেশ আনন্দ লাগছে। নগদ টাকা ছাড়া ব্যাগটির মধ্যে দুটি চেক বই ছিল। সেখানে কয়েকটি পাতায় টাকার অঙ্ক উল্লেখ না থাকলেও স্বাক্ষর ছিল। কোনো খারাপ লোকের হাতে ব্যাগটি পড়লে ওই চেক দিয়ে মালিককে বেকায়দায় ফেলতে পারতো। তবে যার ব্যাগ তার কাছে ফেরত দিতে পেরেছি এতেই মনে অনেক শান্তি পেয়েছি।

Sharing is caring!