বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ২ পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশিত: ৪:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ::

বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় কর্মরত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন- উপ পরিদর্শক (এস.আই) বশির আহমেদ ও সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) মো. শরীফ। সোমবার রাতে তাদের সাময়িক সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান।

দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের সঠিক কারণ যায়নি। বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে একাধিক স‚ত্র জানিয়েছে। বর্তমান সময়ে নগরীতে আলোচিত ঘটনা দলিল লেখক রিয়াজের হত্যাকারী সন্দেহভাজন (স্ত্রী) আমিনা আক্তার লিজাকে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায় করার কথিত অভিযোগ করা হয়েছে উপ পরিদর্শক বশির আহমেদের বিরুদ্ধে।

দুই পুলিশ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী মডেল থানার সহকারী কমিশনার মো. রাসেল আহমেদ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার বলেন, নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে তারা দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। বিভাগীয় তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে বরিশাল সদর উপজেলার বুখাইনগর গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় দলিল লেখক রিয়াজকে কুপিয়ে হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন উপ পরিদর্শক বশির আহমেদ। ২০ এপ্রিল নিহতের স্ত্রী লিজা পরকীয়া প্রেমিক মাসুমকে নিয়ে স্বামী হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন।

পরবর্তীতে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অধিকতর তদন্তে গ্রেফতার হওয়া তিন যুবক ২৮ আগস্ট স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, ঘরে চুরি করতে ঢুকলে রিয়াজ জেগে ওঠায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লিজার অভিযোগ, উপ পরিদর্শক বশির আহমেদ তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে আদালতে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছিলেন।

এদিকে আদালতে তিন চোরের রহস্যময় আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়া নিয়ে রিয়াজ হত্যার বাদি তারই বড় ভাই মনিরুল ইসলাম রিপন বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ৭ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির তদন্তে তিন চোরকে আটক করে আদালতে খুনের দায় স্বীকার করার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে। একই সাথে প্রথম পর্যায়ে রিয়াজ হত্যার আসামীদের কোতয়ালী মডেল থানার এস আই বসির ও এস আই ফিরোজ আল মামুনের তদন্ত অনেকটাই সঠিক ছিল বলে মনের করেন বাদি মনিরুল ইসলাম রিপন।

 

Sharing is caring!