বরিশালে ১৯ বছর পর হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ৯:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২০

মো: জিয়াউদ্দিন বাবু ॥

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে ডাল ব্যবসায়ী মোতাহার হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করার ১৯ বছর পর দুই আসামীকে যাবজ্জীবন করে কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে অপর এক আসামীকে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাস কারাদণ্ড দেয়া হয়। বুধবার (১৯ আগস্ট) বরিশালের ২য় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মাহবুব আলম এ রায় প্রদান করেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান রিয়াজ বলেন, যাবজ্জীবন দণ্ডিত দুই সহোদর হলেন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রতনপুর এলাকার মৃত জয়নাল সিকদারের ছেলে বাবুল সিকদার ও জাহাঙ্গীর সিকদার। এছাড়া ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত অপর দণ্ডপ্রাপ্ত হলেন একই এলাকার বাসিন্দা মামুন।

আইনজীবী আজিজুর রহমান রিয়াজ মামলার এজাহারের বর্ণনা দিয়ে জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে ২০০১ সালের ২৭ মার্চ দুপুরে মিয়ার হাট বাজার সংলগ্ন এলাকায় ডাল ব্যবসায়ী মোতাহার হাওলাদার, মন্টু হাওলাদার ও মুজাহার হাওলাদারদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করেন দণ্ডপ্রাপ্তরা। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ও পরে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করেন। ২৭ মার্চ দিবাগত রাত ১০ টায় শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন মোতাহার হাওলাদার।

এ ঘটনার পরের দিন ১৯ জনকে নামধারী ও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত মোতাহার হাওলাদারের ভাই আজাহার হাওলাদার। আদালত সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে এ রায় দেন।

আসামীদের মধ্যে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বাবুল মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আর দেড় যুগ পর ভাই হত্যা মামলার রায় পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও মামলার আইনজীবী ও বাদীর পরিবার বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করে বীরদর্পে চলে যাওয়ায় সকল আসামীদের একই ধরনের সাজা হওয়া উচিত ছিল।

অপরদিকে বিবাদী পক্ষের দায়ের করা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আঙুল বিচ্ছিন্ন অর্থাৎ অঙ্গহানি করায় একটি মামলায় নিহত মোতাহারের ভাই সিরাজ ও চাচাতো ভাই মোতালেবকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অন্য আসামি মোজাহারকে ৫ বছর কারাদন্ডের সাজা দেন একই আদালত।

Sharing is caring!