বরিশালে ১৫০ টাকা ইলিশের কেজি!

প্রকাশিত: ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০১৯

বঙ্গোপসাগর ও দেশের নদ-নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বুধবার রাত থেকে শুরু হয় ইলিশ ধরা। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে বাজারে আসতে শুরু করে ইলিশ। প্রথম দিনই বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের ইলিশ মোকাম ইলিশে সয়লাব হয়ে যায়। এ অবস্থায় সর্বনিম্ন ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে ইলিশ।প্রথম দিন এতো ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেরা যেমন খুশি, তেমনি বাজারেও মাছের দেখা মেলায় ব্যবসায়ীরা খুশি। তবে হঠাৎ ইলিশের কেজি ১৫০ টাকা হওয়ায় কেউ কেউ অখুশি।

সরেজমিনে দেখা যায়, কীর্তনখোলা নদী থেকে একের পর এক ইলিশবোঝাই নৌকা, ট্রলার ও স্পিডবোট এসে ভিড়ছে ঘাটে। সঙ্গে সঙ্গে সেসব নৌকা ঘিরে ধরছেন পোর্ট রোড ইলিশ মোকামের আড়তদাররা। রীতিমতো ইলিশের উৎসব শুরু হয়েছে। সরগরম হয়ে উঠেছে ইলিশের বাজার।

আড়তদাররা ঘাট থেকে ইলিশ কিনে স্তূপ করে রেখেছেন আড়তের সামনে। এ অবস্থায় আড়তগুলোর সামনে প্রচুর ভিড়। সেখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দরদাম করছেন খুচরা ক্রেতারা। কেনাবেচার ধুম পড়েছে নগরীর পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামে।

প্রচুর ইলিশের সরবরাহ থাকায় দামও কম। ক্রেতারাও খুশি। ইলিশ কিনছেন যে যার সাধ্যমতো। সাধারণ ক্রেতাসহ ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। ইলিশ কেনার দিক থেকে তারাই ছিলেন এগিয়ে। ইলিশ কিনে ককশিটে বরফ দিয়ে প্যাকেটজাত করছেন শ্রমিকরা। প্রতিটি আড়তের সামনে প্রচুর ইলিশ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আড়তদার, মৎস্য শ্রমিক ও ক্রেতাদের ভিড়ে পুরো এলাকা সরগরম। ভিড় ঠেলে এক আড়ত থেকে অন্য আড়তে যেতে হিমশিম খেতে হয় তাদের।

ভিড়ের কারণ হিসেবে ক্রেতারা বলছেন, ২২ দিন ইলিশ ধরা ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ ছিল। মাস খানেক আগেও বেশি দামের কারণে ইলিশের পাশে ভিড়তে পারেনি মানুষ। কিন্তু এখন সেই ইলিশ প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে। হাফ কেজি ওজনের এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। তবে ছোট সাইজের ইলিশের কেজি ১৫০ টাকা।

কম দামে ইলিশ বিক্রির খবর পেয়ে পোর্ট রোডে ইলিশ কিনতে আসা হাবিবুর রহমান সোহেল বলেন, আধা কেজি ওজনের ৮টি ইলিশ মাত্র ১ হাজার ৬০০ টাকায় কিনেছি। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এগুলোর দাম ছিল সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। পাশাপাশি ছোট ইলিশের কেজি ১৫০ টাকা। বাজারে প্রচুর ইলিশ আসায় দাম কমেছে।

তবে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর ধরা পড়া ইলিশের মধ্যে অধিকাংশের পেটে ডিম। সেক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা আরও ১৫ দিন পিছিয়ে অর্থাৎ ২২ অক্টোবর থেকে শুরু করে ২২ দিন করলে ভালো ফল পাওয়া যেত। এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি, আবহাওয়া প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ইলিশের প্রজনন সময়কাল পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রতি বছরই এই কার্যক্রম হাতে নেয়ার আগে জেলেদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও মাঠপর্যায়ে আরও বাস্তব ধারণা নিয়ে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

ছোমেদ আলী নামে স্থানীয় এক জেলে বলেন, জাল ফেললেই ২০-৩০ কেজি, কখনো এক মণ ইলিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে অধিকাংশ ইলিশের পেটে ডিম। পাশাপাশি জাটকাও রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার সময় আরও বাড়ানো উচিত ছিল।