বরিশালে সরকারি কলেজগুলোর আবাসিক হল বহিরাগতদের দখলে

প্রকাশিত: 8:55 PM, October 13, 2019

শাকিল মাহমুদ ॥ বরিশালের সরকারি কলেজগুলোর রয়েছে আবাসিক হল। এ সকল আবাসিক হলে সাধারণত শিক্ষার্থীদের বসবাস করার কথা থাকলেও বেশির ভাগ হলের রুমগুলো অছাত্র এবং বহিরাগতদের দখলে। বিভিন্ন হলে ছাত্রনেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় অবস্থান করছে বহিরাগতরা। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিার্থীরা। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিার্থীদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে সামগ্রিক জীবনযাত্রায়। এদিকে কলেজগুলোতে শিার্থী বৃদ্ধির অনুপাতে আবাসন ব্যবস্থা না হওয়ায় হলগুলো হয়ে উঠেছে জনবহুল ও ঘিঞ্জি। ফলে শিার্থীরা পাচ্ছেন না শিার উপযুক্ত পরিবেশ। এছাড়া হল প্রশাসনের তদারকির অভাবে সরকারি ছাত্র সংগঠনের নেতারা বছরের পর বছর অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছেন। যদিও শিা প্রতিষ্ঠান ও হলগুলোতে উচ্ছৃঙ্খলতা, অনিয়ম বের করতে তল্লাশি (সার্চ) চালানো হবে বলে গত ৯ অক্টোবর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কলেজের হলগুলোতে সিট না পাওয়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, কলেজগুলোতে তাদের প্রধান সমস্যা-আবাসন সংকট। আবাসন সংকটের কারণেই বহিরাগতদের দাপট বাড়ছে। এছাড়া তারা আরও জানান, বরিশালে সরকারি বিএম কলেজে সার্জেন্ট ফজলুল হক হল (মুসলিম হল), অশ্বীনি কুমার ডিগ্রি হল, বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রী নিবাস. সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ’র শহীদ আলমগীর ছাত্রাবাস, বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’র মুক্তিযোদ্ধা ছাত্রাবাস এই সকল সরকারি কলেজ এর হলগুলোতে ছাত্রনেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় অছাত্র এবং বহিরাগতরা বেশি অবস্থান করে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করে বলেন, সাবেক অনেক শিার্থীর দীর্ঘদিন ধরে হলে অবস্থান এবং ছাত্রনেতাদের আশ্রয়ে বহিরাগতদের কারণে হলের আবাসিক সমস্যা প্রকট। বহিরাগতদের কাছে হলের ক ভাড়া দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে বহিরাগতদের বের করার জন্য হল কর্তৃপ বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালালেও পরে তদারকির অভাবে আগের অবস্থা ফিরে আসে। মতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতারা অনেকেই একা একটি রুম দখল করে আছেন দিনের পর দিন। তাছাড়া তাদের ছত্রচ্ছায়ায় প্রায় প্রতিটি হলেই থাকছে বহিরাগতরা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, হল কর্তৃপ সিট বরাদ্দ দেয় কাগজে-কলমে। কোন করে কোন সিটে কে থাকবেন তা নিয়ন্ত্রণ করেন ছাত্র সংগঠনের নেতারা। এতে শর্তসাপেে তারাই প্রথম বর্ষের শিার্থীদের হলে তোলেন। হলে উঠতে হলে যোগাযোগ করতে হয় ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, আবাসিক শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ না করলে বহিরাগদের দ্বারা মারধরের শিকার হন। এছাড়াও অবৈধ অস্ত্র রাখতে ব্যবহার করা হয় এই হলগুলো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, অছাত্র এবং বগিরাগতরা বেশির ভাগই প্রভাবশালী। অনেক সময় চাইলেও রাজনৈতিক চাপে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। এছাড়া অনেক শিক্ষক নেতার ছত্রচ্ছায়ায় এ সকল অছাত্র এবং বগিরাগতরা কলেজ এবং হলগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। সরকারি বিএম কলেজ’র বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রী নিবাস সূত্রে জানা যায়, এই হলে অনিয়ম সবচাইতে বেশি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু বহিরাগত মেয়েরা নানা অনিয়ম করে আসছেন। এমনকি বহিরাগত মেয়েদের রুম ভাড়া পর্যন্ত দেয়া হয়। সম্প্রতি এই ছাত্রীনিবাসে বেশ কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। যার মূলে আছেন বহিরাগত মেয়েরা বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বরিশাল সরকারি বিএম কলেজ’র অধ্যক্ষ প্রফসের মো. শফিকুর রহমান সিকদার বলেন, আমরা এ ব্যাপারে এর আগেও কঠোর অবস্থানে ছিলাম। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুতই হলে হলে অভিযান পরিচালনা করে হলগুলোকে অছাত্র ও বহিরাগত মুক্ত করা হবে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ’র অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের হোস্টেলে কোন বহিরাগত নেই। তবে বহিরাগতদের উৎপাত আছে কিছুটা। আমাদের এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি আছে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’র অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো: রুহুল আমীন জানান, আমরা এ সম্পর্কে নোটিশ জারি করেছি। আবাসিক ছাত্রদের তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে। দ্রুত আমরা বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।

Share Button