বরিশালে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে করোনা ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রম

প্রকাশিত: ১১:১৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২১

১৭টি বুথের মধ্যে প্রস্তুত মাত্র ৪টি

প্রথম ভ্যাক্সিন নিবেন তিন প্রবীণ চিকিৎসক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ৭ ফেব্রুয়ারি রোববার সকাল ৯টা থেকে বরিশাল মহানগরীসহ বিভাগের ৬টি জেলায় ৪২টি উপজেলায় একযোগে শুরু হবে করোনা ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রম। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। একই সময় জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতনা। উদ্বোধন কার্যক্রমের পর পরই বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বপ্রথম পৃথক তিনটি কেন্দ্রে করোনা ভ্যাক্সিন গ্রহণ করবেন প্রবীণ চিকিৎসক ডা. পীযুষ কান্তি দাস, ডা. অসিত ভূষণ দাস এবং ডা. মনোয়ার হোসেন।

 

ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সফলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে বরিশাল সিটি এলাকার মধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল, বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতাল এবং বরিশাল পুলিশ হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে শেবাচিম এবং সদর হাসপাতালে ৮টি করে এবং পুলিশ হাসপাতালে একটি টিকাদান বুথ থাকবে। রবিবার কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও সকল কেন্দ্রে’র বুথগুলো এখনো পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত হয়নি। ১৭টি বুথের মধ্যে শনিবার রাত পর্যন্ত চারটি মাত্র বুথ প্রস্তুত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অবশ্য ভ্যাক্সিন কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত সকলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে মোট ছয়জন স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। যার মধ্যে দু’জন থাকবেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক। এরা দু’জনই সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে কর্মরত আছেন। এর পাশাপাশি টিকা গ্রহণের পরে কোন সমস্যা’র সৃষ্টি হলে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক পরামর্শসহ চিকিৎসা সেবার জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

বরিশাল জেলা’র সিভিল সার্জন ও করোনা ভ্যাক্সিন প্রদান সংক্রান্ত কমিটি’র সদস্য সচিব ডা. মো. মনোয়ার হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রম চলমান থাকবে। প্রতিটি বুথে প্রতিদিন কমপক্ষে এক থেকে দেড়শ ব্যক্তিকে ভ্যাক্সিন দেয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রবীণ নাগরিক, মুক্তিযোদ্ধা, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মী, পুলিশ এবং সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

এদিকে, কার্যক্রমের উদ্বোধনের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে দেখা গেছে তার উল্টোটা। হাসপাতালের নীচ তলায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সন্ধানী ডোনার ক্লাব সংলগ্নে দেখাগেছে, রবিবার সকাল ৯টা থেকে ৪টি কক্ষে কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও সেখানে এখনো পর্যন্ত একটি মাত্র বুথ প্রস্তুতির জন্য তড়িঘড়ি চলছে। সেখানেই এ কার্যক্রমের উদ্বোধন হবে।

 

একই অবস্থা দেখা গেছে বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতালে। সরেজমিনে দেখাগেছে, ‘হাসপাতালটির তিন নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার দুটি কক্ষের একটি পুরুষ এবং অপরটিতে মহিলাদের ভ্যাক্সিন প্রদানের লক্ষ্যে বুথ স্থাপন কাজ চলছে। তবে সেখানকার ৮টি বুথের মধ্যে সবগুলোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেননি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া পুলিশ হাসপাতালের নীচ তলায় একটি কক্ষে বুথ স্থাপন করা হয়েছে।

 

ভ্যাক্সিন কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে শনিবার শেবাচিম হাসপাতাল, সদর এবং পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে তিনটি স্থানে ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর মধ্যে শেবাচিম হাসপাতালে ৮টি বুথের মধ্যে চারটি, জেনারেল হাসপাতালে ৮টির মধ্যে দুটি এবং পুলিশ হাসপাতালে একটি বুথে ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রমের সূচনা হবে। চাপ বাড়লে পরবর্তীতে বাকি বুথগুলো প্রস্তুত করা হবে।
তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্তদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। তাছাড়া আমাদের পর্যাপ্ত জনবলও রয়েছে। আশা করছি আমরা সুষ্ঠুভাবে ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রম শুরু করতে পারবো। পাশাপাশি করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে সকলকে ভ্যাক্সিন গ্রহণের লক্ষ্যে সঠিক নিয়মে রেজিস্ট্রেশন করার আহ্বান জানান তিনি।

 

অপরদিকে, বরিশাল জেলার সিভিল সার্জন ডা. মনোনয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ‘বরিশাল সিটি কর্পোরেশনসহ বরিশাল বিভাগে চাহিদা অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ডোজ টিকা এরি মধ্যে বরিশালে এসে পৌঁছেছে। যার মধ্যে বরিশাল জেলা পেয়েছে ১৪টি কার্টনে ১ লাখ ৬৮ হাজার ডোজ ভ্যাক্সিন। এছাড়া পটুয়াখালীতে ৪৮ হাজার, ঝালকাঠিতে ১২ হাজার, পিরোজপুরে ৩৬ হাজার, ভোলায় ৬০ হাজার এবং বরগুনায় ২৪ হাজার ডোজ টিকা পেয়েছে। যা এরি মধ্যে মহানগরীসহ বরিশাল বিভাগের প্রতিটি ৪২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকাদান কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানিয়েছেন, ‘এ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় দুই লক্ষাধিক মানুষের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশিক্ষিত নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে ৫৪০টি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতি টিমে দু’জন করে করে উচ্চ প্রশিক্ষিত ভ্যাকসিনেটর এবং চারজন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন।

 

তিনি আরও বলেন, ‘বিভাগের ৪২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রত্যেকটিতেই ভ্যাক্সিন প্রদানের জন্য কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে অপেক্ষা ঘর, টিকা দেওয়ার কক্ষ এবং বিশ্রাম শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সঠিক নিয়মে টিকা দেয়ার বিষয়ে এক হাজার ৮০ জন প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২ হাজার ১৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।

 

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানান, ‘বরিশাল সিটিসহ জেলার চারটি কেন্দ্রে এক যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। ওই চারটি কেন্দ্রে সর্বপ্রথম তিনজন চিকিৎসক এবং একজন পুলিশ সদস্য ভ্যাক্সিন গ্রহণ করবেন। এর মধ্যে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল কেন্দ্রে শেবামেক এর সাবেক অধ্যক্ষ ডা. অসিত ভূষণ দাস, বরিশাল সদর হাসপাতালে ডা. পীযুষ কান্তি দাস এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম টিকা নিবেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেন। বরিশাল পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে প্রথম টিকা গ্রহণ করবেন একজন পুলিশ সদস্য। তবে তার নাম জানা যায়নি।

 

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশনের এ্যানেক্স ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনা সভা করেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। ওই সভায় তিনি জানান, ‘‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এরই মধ্যে ১৫টি ক্যাটাগরিতে ১০ হাজারের অধিক লোকের তালিকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যারা বাদ পড়েছেন তারা এখনো সরকারের করোনা সুরক্ষা অ্যাপ এবং ওয়েব সাইটের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। চাহিদা অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনে ভ্যাক্সিনও এসে পড়েছে।