বরিশালে যাত্রীবাহী বাসের ড্রাম থেকে নারীর লাশ উদ্ধার : আটক ৩

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশালের গৌরনদীর ভূরঘাটায় যাত্রীবাহী বাসে ড্রামের মধ্যে থেকে এক অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ওই বাসের চালক, হেলপার ও অপর কাউন্টার শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

পাশাপাশি শুক্রবার রাতে উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত নারীর মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য শনিবার সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে।

 

গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আফজাল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাদের মধ্যে দু’জন চালক ও হেলপার। যেই বাস থেকে লাশ উদ্ধার হয় তারা সেই বাসের শ্রমিক। এছাড়া অপরজন বরিশালের গড়িয়ারপাড় এলাকার কাউন্টার শ্রমিক। তার কাউন্টারের সামনে থেকেই মৃতদেহসহ ড্রামটি বাসে তোলা হয়েছিল।

 

ওসি বলেন, ‘নিহত অজ্ঞাত নারীর পরিচয় এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে এটি যে হত্যাকাণ্ড সে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত। তেমন আলামতও পাওয়া গেছে। এখন হত্যার নেপথে কারা রয়েছে এবং হত্যাকা-ের রহস্য কি তা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে আঞ্চলিক রুটের আর.সি পরিবহন নামের একটি বাস জেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

 

পথিমধ্যে সন্ধ্যা ৭টায় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গড়িয়ারপাড় বাস স্ট্যান্ডে হেলপারের সহায়তায় একটি প্লাস্টিকের ড্রাম বাসের ছাদে ওঠান আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। ড্রামটিতে কাঁচের জিনিস রয়েছে বলে সুপারভাইজার ও হেলপারকে জানিয়েছিলেন ওই যাত্রী।

 

রাত ৯টার দিকে বাসটি ভূরঘাট বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছলে ড্রামের মালিক ভ্যান আনার কথা বলে বাস থেকে নেমে পড়েন। এরপর দেড় ঘণ্টায়ও তিনি ভ্যান নিয়ে না আসায় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ড্রামের মুখ খুলে ভেতরে বোরকা পরিহিত আনুমানিক ৩০-৩৫ বছর বয়সী নারীর মৃতদেহ দেখতে পান বাস শ্রমিকরা।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল রিপোর্টে ওই নারীর মাথার পেছনের দিকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ওই নারীকে হত্যা করে লাশ গুম করতে ড্রামে ভরে বাসের ছাদে তুলে দেয়া হয় বলে জানান তিনি।

Sharing is caring!