বরিশালে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীদের হাতে রোগী নিহত, আটক ৫

প্রকাশিত: ১১:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥

চিকিৎসা কেন্দ্রে নেবার সময় পিটিয়ে এক মানসিক রোগীকে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল নগরীতে। এ ঘটনায় মৃত মোঃ সুমন খান (৩৫) নগরীর ২৫ নং ওয়ার্ডের রেডিও সেন্টার এলাকার বাসিন্দা মোঃ সাত্তার খানের পুত্র। উক্ত ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন চিকিৎসা কেন্দ্রটিতে সবসময় রোগীদের শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়। এমনকি কেন্দ্রটিতে প্রকৃত চিকিৎসক আছেন কিনা তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

জানা গেছে, মৃত্যুর শিকার সুমন দীর্ঘদিন যাবত মানসিক রোগে (অপ্রকৃতস্থতা) ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য একই এলাকায় স্থাপিত ড্রীম লাইফ মাদকাসক্তি ও মানসিক রোগ চিকিৎসা কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বুধবার বিকেলে (২ সেপ্টেম্বর) পাঁচজন কর্মী সুমনকে নিতে যান। এসময় সুমনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়। এ কারণেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্বজনেরা।
এই ধস্তাধস্তির ফলেই সুমন মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে পরিবারের পক্ষ থেকে। সরেজমিনে নগরীর শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) মর্গে গিয়ে মৃতের মুখমণ্ডল, ডান হাত ও বাঁ পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

মৃতের স্বজন (ভাইপো) মোঃ শিবলী খান জানান, বুধবার বিকেল পাঁচটায় চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে কয়েকজন কর্মী বাসায় যান সুমনকে সেখানে নিয়ে যাবার জন্য। সেসময় সুমন তাদের সঙ্গে না যেতে চাইলে পরিবারের সকলের সামনে তাকে লাঠি দিয়ে মুখ, হাত ও পায়ে আঘাত করা হয়। এসময় পাটের বস্তা দিয়ে সুমনের মুখ চেপে ধরেন একজন। এতে শ্বাসরোধ হয়ে সুমন মারা যান।

স্থানীয় যুবক মোঃ শামিম জানান, চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সুমন মারা যান। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উজ্জ্বল সমাদ্দার, মোঃ রায়হান, ফজলে রাব্বি, বায়জিদ হোসেন ও আবুল কালাম নামের চিকিৎসা কেন্দ্রের ৫ কর্মীকে আটক করেন। পরবর্তীতে তাদেরকে র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কার্যালয়ে নিয়ে যান।

তিনি আরো জানান, সন্ধ্যায় পুলিশ এসে ময়না তদন্তের জন্য সুমনের লাশ শেবাচিমের মর্গে প্রেরণ করে। বরিশাল কোতোয়ালি থানা সূত্রে এখনো উক্ত ঘটনায় কোন মামলা না হবার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে সংবাদ তৈরিতে তথ্য সংগ্রহের জন্য গেলে স্থানীয়রা জানান, ড্রীম লাইফ মাদকাসক্তি ও মানসিক রোগ চিকিৎসা কেন্দ্রটিতে কোন চিকিৎসক নেই। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক কোন নিবন্ধন ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এছাড়া সেখানকার কর্মীদের হাতে নির্যাতনের এই ঘটনা এটাই প্রথম নয় বলে জানান অনেকে।

Sharing is caring!