বরিশালে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যবিধি : মুখের মাস্ক থাকছে হাতে-পকেটে

প্রকাশিত: ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২০

মোঃ জিয়াউদ্দিন বাবু ॥

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি মেলেনি এখনো। তার মধ্যেও দেশের উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে সীমিত পরিসরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন চালু করা হয়েছে। সেই সাথে চলামান রয়েছে অফিস-আদালতের কার্যক্রম। তবে এমন পরিস্থিতিতে সকল পর্যায়ে মাস্ক পরার বিষয়টি বাধ্যতামƒলক করেছে সরকার। সিদ্ধান্ত হয়েছে মাস্ক না পরা ব্যক্তিদের মোবাইল কোর্টের আওতায় নিয়ে আসার।

সরকারের এমন কঠোর সিদ্ধান্তের পরেও বরিশালের প্রেক্ষাপটে ঘটছে উল্টোটা। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। গণপরিবহনে চালক হেলপার থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিপণীবিতান কিংবা পথেঘাটে মাস্ক ছাড়াই ঘোরা ফেরা করছে সাধারণ মানুষ। তাদের সাথে মাস্ক থাকলেও কেউ হাতে আবার কেউ তা পকেটে নিয়ে ঘুরছে। আবার কেউ কেউ মুখের নিচে মাস্ক নিয়ে দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে জনসম্মুখে।

মানুষের এমন অসচেতনতার কারণে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ ভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। তবে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মানাতে যাদের প্রধান ভূমিকা থাকার কথা সেই প্রশাসনও রয়েছে নীরব ভূমিকায়। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো মোবাইল কোর্ট বা অভিযানের কথা উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে তা হতাশার বলে মনে করছে বিশেষ মহল।

মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখাগেছে, ‘অধিকাংশ মানুষ এখন মাস্ক ছাড়াই প্রকাশ্যে ঘোরা ফেরা করছে। আবার স্বাস্থ্যবিধিতে সামাজিক দূরত্বের কথা বলা হলেও তা বাস্তবে হচ্ছে না। আড্ডার নামে কোথাও ঘটছে গণজমায়েত। চায়ের দোকানে ভিড় আবার গণপরিবহনেও অতিরিক্ত যাত্রী বহনে ভঙ্গ হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি।

বিশেষ করে নগরীর অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করা অটোরিক্সা, মাহেন্দ্র, অটো টেম্পু কিংবা সিএনজিতে বহন করা হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী। স্বাস্থ্যবিধির বালাই না থাকা এসব যানবাহনের যাত্রীদের মুখে যেমন মাস্ক থাকছে না তেমনি স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব দিচ্ছেন না চালকরাও।

আলাপকালে মাস্ক না পরা বোরহান মিয়া নামে এক রিক্সা চালক বলেন, মাস্ক পরে রিক্সা চলাতে কষ্ট হয়। মনে হয় শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। একটু পরেই হাঁপিয়ে উঠতে হয় আবার বৃষ্টি কিংবা ঘামে ভিজে মাস্ক নষ্ট হয়ে যায়। আমরা রিক্সা চালিয়ে সংসার চালাই। তাই প্রতিদিন মাস্ক কেনা সম্ভব হয় না। এ কারণেই মাস্ক খুলে পকেটে রেখেছি। পুলিশ দেখলে মাস্ক পরি, আবার পরে তা খুলে ফেলি। তবে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হলে সে ক্ষেত্রে শ্রমজীবী মানুষের জন্য এটি ফ্রি বিতরণ করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অপরদিকে নগরীর দুটি বাসস্ট্যান্ড এবং লঞ্চঘাটে ঘুরে দেখা যায়, নামে স্বাস্থ্যবিধি বলা হলেও বাস্তবে এর ছিটে ফোঁটাও নেই। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাস্ক পরে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে আছেন। আর যাত্রীরা ঘুরছেন মাস্ক ছাড়া। আবার যানবাহনে মাস্ক ছাড়া যাত্রী তুলতে নিষেধ করা হলেও সেই নির্দেশও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। কেননা বাস চালক কিংবা হেলপার নিজেরাও সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করছেনা। ঠিক একই চিত্র নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা সদর রোড, চক বাজার, কাটপট্টি এমনকি মাছ-মাংস এবং কাঁচাবাজারেও।

নগরীর সচেতন মহল বলেন, ‘করোনা থেকে প্রতিকারে এখনো কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। তাই এ থেকে রক্ষার একমাত্র ওষুধ এখন মুখে মাস্ক এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা। এ বিষয়টিতে সরকার গুরুত্ব দিলেও জনগণ তা মানছে না। এমনকি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। পাশাপাশি এই ভাইরাস মাহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আগেই মাস্ক পরার বিষয়ে জোরালে অভিযান বা মোবাইল কোর্টের প্রতি গুরুত্ব বাড়ানো জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন তৎপর। করোনা সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব এবং মাস্ক পরার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা শুরু থেকেই অভিযান সহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আসছি। যা এখনো চলমান রয়েছে। তবে সামনে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নিজের এবং পরিবারের স্বার্থে অবশ্যই প্রতিটি মানুষের মুখে বাধ্যতামুলক মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা উচিত’।

Sharing is caring!