বরিশালে ভাবিকে হত্যাকারী দেবরের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ১০:৫৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিশু সন্তানের সামনে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদ এবং হত্যাকারী দেবরের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে নগরীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে শহরের প্রাণকেন্দ্র সদর রোডে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের শের-ই-বাংলা সড়কের ‘মা মঞ্জিলে’ বড় ভাইয়ের স্ত্রী বিলকিস বেগমকে কুপিয়ে জখম করেন দেবর আলম শরীফ। এর ৫১ দিন পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বিলকিস।

 

তাছাড়া ঘটনার প্রায় সাত বছর পরে ভাবি হত্যা মামলার আসামি আলম শরীফকে গ্রেফতার করে মহানগরীর বন্দর থানা পুলিশ।

 

গ্রেফতার হওয়া আসামি আলম শরীফের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে সোমবার অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে মামলার বাদী নিহত গৃহবধূর বাবা মফিজ উদ্দিন হাওলাদার, মা শাহিনুর বেগম, শিশুপুত্র ইমন শরীফ (১৪), ছোট ভাই শান্ত শরীফ (১২), মামা সিব্বির আহমেদ, মো. বশির আহমেদ, নাসির উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সে সময়ের সাত বছর বয়সী ইমন শরীফ কান্না জড়িত কণ্ঠে নিচের চোখের সামনে মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার বর্ণনা দেয়। পাশাপাশি মায়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ বিচার দাবি করে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে এক লক্ষ টাকার চেকে স্বাক্ষর না করায় বড় ভাইয়ের স্ত্রী বিলকিস বেগমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন আলম শরীফ। পরে বিলকিস বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৫১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

এই ঘটনায় নিহতের বাবা মফিজ উদ্দিন হাওলাদার বাদী হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন অভিযুক্ত আলম শরীফ। তার অনুপস্থিতিতেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

সবশেষ গত ১৮ জানুয়ারি ভোররাতে বরিশাল নৌ-বন্দর এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ফারহান লঞ্চ থেকে আলম শরীফকে গ্রেফতার করে বন্দর থানা পুলিশ। পরে তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।