বরিশালে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ম্লান দুর্গোৎসব

প্রকাশিত: ১০:৫৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ::

বরিশালে টানা বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। পাশাপাশি জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে নগরীর বেশকিছু এলাকা। বুধবার দিবাগত রাত ২টা থেকে দুপুর পর্যন্ত একটানা চলে বৃষ্টিপাত। ফলে স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব পালনেও ব্যাঘাত ঘটছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর বেশ কয়েকটি মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, দর্শনার্থীদের উপস্থিতি খুবই কম। উৎসব পালনের আনন্দেও যেন ভাটা পড়েছে। বিকাল নাগাদ আবহাওয়ার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলে মণ্ডপে বাড়তে শুরু করে ভক্ত-দর্শনার্থীদের ভিড়। তবে করোনাকালীন প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতার কারণে অনেকটাই মøান এবারের দুর্গোৎসব।

এবছর দুর্গাপূজার আয়োজনে তেমন উৎসবের আমেজ নেই হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে। শ্রী শ্রী শংকর মঠ, শ্রী শ্রী পাষাণময়ী কালীমাতার মন্দির, জগন্নাথ দেবের মন্দির, নতুন বাজার, ফলপট্টি, কাঠপট্টি, বাজার রোডের মন্দিরগুলোর সাজসজ্জাতেও যেন প্রভাব পড়েছে করোনার। এবছর পুরনো জৌলুস ফিকে হয়ে গেছে অনেকটাই। আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও থাকছে না বরিশালের মন্দিরগুলোতে।

মন্দিরে আগত একাধিক ভক্ত-দর্শনার্থী জানান, করোনা মহামারির কারণে এবার হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আয়োজন শারদীয় ‘দুর্গোৎসব’কে ‘দুর্গাপূজা’ হিসেবে অভিহিত করছেন তারা। কারণ এবার হবে না কোন উৎসব, অনুষ্ঠিত হবে কেবল পূজা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত দত্ত লিটু বলেন,‘যতটুকু ধারণা করছি তাতে সম্প্রদায়ের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ভাগ পরিবারে এবারে আনন্দ উদযাপনে ভাটা পড়েছে। নতুন পোশাক কেনা কিংবা অতিথি আপ্যায়নে ভালো মন্দ রান্না করার যে আয়োজন প্রতিবছর থাকে তা এবার চোখে পড়বে না খুব একটা। এজন্য তিনি যারা একটু বেশি অসহায় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক পূজা উদযাপনের আহবান জানিয়ে মন্দিরে আগত ভক্ত-দর্শনার্থীদের জন্য করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।

প্রসংগত, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবার ৪৩ টি পূজা মণ্ডপে আয়োজন করা হয়েছে দুর্গোৎসবের।

 

Sharing is caring!