বরিশালে দুদিন থাকবে ভারী বৃষ্টি, চলতি মাসের শেষে বন্যার সম্ভাবনা

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২০

শফিক মুন্সি  ::

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুদিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে বরিশাল বিভাগ জুড়ে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা ও বন্দর গুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চলতি মাসের শেষের দিকে বরিশালের নদ – নদীগুলোয় জোয়ার ও বর্ষণের পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির কথাও জানা গেছে। এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার দরুণ সৃষ্ট বজ্রপাতে মঙ্গলবার সকালে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। লঘুচাপের প্রভাবেও দেখা দিয়েছে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা। তবে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হওয়ায় ভ্যাপসা গরমে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছে। অন্যদিকে আগামী পূর্ণিমাকালীন সময়ের পর থেকে জোয়ারের পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত যুক্ত হলে তলিয়ে যেতে পারে ফসলি ও আবাদী জমি।

আবহাওয়া অফিস আরো জানিয়েছে, বুধ ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে। এতে আস্তে আস্তে কমে আসবে তাপমাত্রা। জনজীবনে মিলবে স্বস্তি। মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টিপাত বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলো আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অধিপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিলো, বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কলিকাপুর এলাকার আঃ ছালাম সরদার (৫৫) নামের এক বৃদ্ধ বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে বাড়ির পাশে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গেলে বজ্রপাতের কবলে পড়েন তিনি। পরে এলাকাবাসী খবর পেয়ে আঃ ছালাম সরদারকে উদ্ধার করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মোঃ রুবেল হোসেন জানান, দেশের দক্ষিণ আকাশে তাপযুক্ত মেঘমালার উপস্থিতির কারণে বরিশাল জুড়ে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়েছে। যা বুধ ও বৃহস্পতিবারের তীব্র বর্ষণে কমে যেতে পারে। মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের কারণে এই বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরো জানান, বরিশাল বিভাগের সমুদ্রবন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়া পর্যবেক্ষক প্রণব কুমার রায় বলেন ,‘ চলতি মসের শেষের দিকে পূর্ণিমাকালীন বরিশালের নদ-নদীর জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাবে। ততদিনে উত্তরাঞ্চলীয় বন্যা পরিস্থিতির যদি উন্নতি না হয় তবে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের যে সম্ভাবনা আছে সেটা যুক্ত হয়ে এখানকার স্থলভাগ জোয়রের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে’।

Sharing is caring!