বরিশালে ছাত্রদলের কমিটি গঠনে সমস্যা বিএনপির ‘সুপারিশ’

প্রকাশিত: ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥

দীর্ঘ ১৫ বছর পর বরিশাল জেলার আওতাধীন দশটি উপজেলা, পৌরসভা এবং সেখানকার ইউনিয়ন গুলোতে নতুন কমিটি দিতে যাচ্ছে ছাত্রদল। এজন্য গত ২০ জুলাই পর্যন্ত সবগুলো ইউনিট থেকে নতুন কমিটির পদ প্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি নেতাদের প্রেরিত তালিকা ও সুপারিশের কারণে কমিটি করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে জেলা ছাত্রদলকে। বিষয়টি সমাধানের জন্য বরিশাল জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বর্তমানে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ দলের স্বার্থেই এমন সুপারিশ কিংবা তালিকা প্রেরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় বিএনপির সুপারিশ পাওয়া কিংবা না পাওয়া খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।

জেলা ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিটগুলোতে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এক্ষেত্রে কমিটিতে পদপ্রার্থীদের জন্য কিছু বৈশিষ্ট্য ঠিক করে দেয়া হয় সেসময়। সে অনুযায়ী বিবাহিত, অছাত্র, মাদকাসক্ত এবং ২০০৫ সালের আগে মাধ্যমিক (এসএসসি) পাস কাউকে পদ দেয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে কমিটি করতে স্থানীয় বিএনপি এবং বিগত দিনে সেখানে বিএনপি মনোনীত সংসদীয় আসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নেতাদের পরামর্শ নেবার নির্দেশনা দেয়া হয় জেলা ও মহানগর ছাত্রদলকে। কিন্তু এই পরামর্শ নেবার নির্দেশনা নতুন কমিটি গঠনে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্টদের কাছে। বিশেষ করে যেসব উপজেলায় স্থানীয় বিএনপি কিংবা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা নেতাদের অন্তর্কোন্দল আছে তাদের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তালিকা এসেছে গঠিত হতে যাওয়া বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রদলের কমিটির জন্য।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফফুজুল আলম মিঠু জানান, কমিটি করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে উপজেলাগুলোর স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ সুপারিশসহ একধরনের তালিকা পাঠাচ্ছেন। আবার স্থানীয়ভাবে বিগত দিনে যারা সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন তারা এক রকমের তালিকা দিচ্ছেন। এছাড়া জেলার নেতারাও বিভিন্ন জনের জন্য সুপারিশ করছেন। স্বল্প সংখ্যক পদের জন্য এত সুপারিশ ও তালিকার কারণে সমন্বয় করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।

তিনি বলেন, উপজেলাগুলোতে যারা বিরোধী দলীয় হামলা – মামলার শিকার এবং ত্যাগী তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। কিন্তু বিএনপি নেতৃবৃন্দ যাদের তালিকা পাঠাচ্ছেন কিংবা সুপারিশ করছেন তাদের বেশিরভাগই এলাকাতে না থাকলেও শুধুমাত্র মূল দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় তালিকায় নিজেদের নাম ঢুকিয়ে নিচ্ছেন।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান জানান, কেন্দ্র থেকে তাদের প্রতি নির্দেশনা আছে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং সংসদীয় আসন গুলোতে বিগত দিনে যারা দলীয় প্রার্থী ছিলেন তাদের পরামর্শ নিয়ে কমিটি গঠন করার। কিন্তু কিছু কিছু উপজেলায় স্থানীয় বিএনপির মধ্যে গ্রুপিং আছে। আবার কিছু উপজেলায় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও বিগত দিনে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছে সমন্বয়হীনতা। যে কারণে তাদের কাছ থেকে একই ইউনিটের একাধিক তালিকা পাওয়া গেছে। এসব তালিকা সমন্বয় করতে গিয়ে সমস্যার কথাও জানান এই নেতা।

এদিকে বিএনপির বরিশাল উত্তর জেলা শাখার সভাপতি মেজবা উদ্দিন ফরহাদ বলেন, যেহেতু বিরোধী দলীয় রাজনীতি এবং আন্দোলন সংগ্রামে সকলকেই দরকার তাই সবার সঙ্গে সমন্বয় করেই ছাত্রদলের কমিটি করা উচিত। এই কথার সঙ্গে একমত পোষণ করে বরিশাল দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন জানান, বিরোধী দলীয় রাজনীতিতে সবার মতামত নিয়ে কমিটি গঠন করাই ভালো। এক্ষেত্রে যদি কমিটির কলেবর বৃদ্ধি করতে হয় সেটাও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ভেবে দেখা উচিত। এদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, বিএনপি একটি বড় সংগঠন। যার সঙ্গে ছাত্রদল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমাদের কর্মী সংখ্যা বেশি বিধায় নতুন কমিটি করতে গেলে অনেকের নাম আসবে এটাই স্বাভাবিক। তবে যত নামই আসুক দলের স্বার্থে যারা যোগ্য ও ত্যাগী তাদের নিয়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিএনপি নেতাদের পরামর্শ অনুযায়ী জেলা ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি দেবেন এটাই প্রত্যাশা এই নেতার।

তবে বিএনপি নেতাদের সুপারিশ কিংবা তালিকা ছাত্রদলের কমিটি গঠনে মূল বিবেচ্য বিষয় নয় বলে জানালেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। তিনি বলেন, বিগত দিনে যারা রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং ছাত্রদলের পদ পেতে যেসব যোগ্যতা দরকার সেগুলো আছে, তারাই নতুন নেতৃত্বে আসবেন। তিনি আরো বলেন, বরিশালের প্রতিটি উপজেলা এবং পৌর ছাত্রদলের কর্মীদের নিয়ে আমরা সভা করেছি। জেলা ছাত্রদলের কাছে প্রতিটি ইউনিটে কারা কাজ করেছেন সেই তালিকা (সার্ভে) আছে। তাই মাঠে না থেকে শুধুমাত্র বিএনপি নেতাদের সুপারিশে কেউ ছাত্রদলের পদ পাবেন না।