বরিশালে চলমান মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে আরো ৩৭ জনকে কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥

বরিশালে গত সপ্তাহের বুধবার (১৪ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া প্রজননক্ষম (মা) ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৩টি মামলায় ৩৭ জন জেলেকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় ছয়জন জেলের কাছ থেকে ২৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এছাড়াও জেলেদের কাছ থেকে প্রায় এক লাখ মিটার কারেন্টজাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

এদিকে গত ১৪ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫৮টি অভিযানে ২১৯ টি মামলা করা হয়েছে। যেখানে জরিমানাকৃত ব্যক্তির সংখ্যা ৩৫ জন এবং কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে ১৮৪ জনকে। এছাড়া সর্বমোট ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। প্রায় ১৪ লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে তা পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমানের নির্দেশনায় গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ছয়টি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

জেলা প্রশাসন বরিশালের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত বিশ্বাস দাস এর নেতৃত্বে শুক্রবার বিকাল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বরিশালের বিভিন্ন নদীর পৃথক পৃথক স্থানে প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান- ২০২০ উপলক্ষে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে ইলিশ মাছ আহরণের সময় নৌ-পুলিশের সহায়তায় ১ জেলেকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে ইলিশ মাছ আহরণের দায়ে আটককৃত ১ জেলেকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

উক্ত অভিযানে প্রসিকিউশন অফিসার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অফিসার( ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস। এছাড়া কীর্তনখোলা নদীতে পৃথক পৃথক স্থানে পরিচালিত এই অভিযানসমূহে আইন-শৃংখলা রক্ষায় নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ড বরিশাল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

হিজলা উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বকুল চন্দ্র কবিরাজ এর নেতৃত্বে প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান- ২০২০ উপলক্ষে হিজলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে মাছ ধরার অপরাধে হিজলা উপজেলার বিভিন্ন নদীতে শুক্রবার পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ১০ জন জেলেকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃত ১০ জেলেকে ১ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অধিকন্তু প্রায় ৫০০০০ মিটার জাল জব্দ ও পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

মেহেন্দিগঞ্জে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে মাছ ধরার অপরাধে উপজেলার বিভিন্ন নদীতে পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ১৮ জন জেলেকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃত ১৭ জনকে জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ১ জনকে ১০০০০ টাকা অর্থদ- প্রদান করা হয়। অভিযানে প্রায় ১৪০০০ মিটার জাল ও প্রায় ২৭ কেজি পরিমাণ ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। মাছ স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও স্থানীয় দুস্থদের মাঝে বিলিয়ে দেয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পিজুস চন্দ্র দে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে প্রসিকিউশন অফিসার হিসেবে উপস্থিত থেকে সহায়তা প্রদান করেন উপজেলা মৎস্য অফিসার ভিক্টর বাইন। অভিযানসমূহে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক সহায়তা প্রদান করে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ, কাজিরহাট থানা পুলিশ ও কালীগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির চৌকস পুলিশ দল।

বানারীপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মফিজুর রহমান এর নেতৃত্বে প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান- ২০২০ উপলক্ষে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানকালে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে ইলিশ মাছ আহরণের সময় ৪ জন জেলেকে বানারীপাড়া থানা পুলিশ এর সহায়তায় আটক করা হয়। পরবর্তীতে

আটককৃত ২ জেলেকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- এবং ২ জনকে ৮০০০ টাকা অর্থদ- প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ১০০০ মিটার জাল জব্দ ও পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
বাবুগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান খান এর নেতৃত্বে প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান- ২০২০ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানকালে ৩০০০০ মিটার জাল জব্দ ও পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। জব্দকৃত মাছ স্থানীয় এতিমখানা ও দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রণতি বিশ্বাসের নেতৃত্বে প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান- ২০২০ উপলক্ষে উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে প্রায় ১২০০০ মিটার জাল জব্দ ও পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।

Sharing is caring!