বরিশালে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার সাত বছর পর ভাসুর গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১০:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নগরীতে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া ভাসুরকে গ্রেফতার করেছে বরিশাল মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। ঘটনার দীর্ঘ সাত বছর পরে সোমবার (১৮ জানুয়ারি) ভোর রাতে বরিশাল নৌ বন্দরে ঢাকা থেকে ফেরা এমভি ফারহান লঞ্চ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত হত্যা মামলার আসামি আলম শরীফ নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডস্থ শের-ই-বাংলা সড়কের মা মঞ্জিলের বাসিন্দা ছিলেন। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর না করায় ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মা মঞ্জিলে ছোট ভাই ছালাম শরীফ বাদশার স্ত্রী বিলকিস বেগমকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান আলম শরীফ। এর ৫১ দিন পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বিলকিছ বেগম।

মামলার বরাত দিয়ে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ এস.এম. জাহিদ-বিন-আলম জানান, ‘আলম শরীফ ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর ব্যাংক চেক চুরি করে এক লক্ষ টাকা উত্তোলনের জন্য বিলকিস বেগমের স্বাক্ষর নিতে যান। এসময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় ভাসুর আলম শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে ১৪ বছর বয়সী ভাতিজা ইমন শরীফ এর সামনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বিলকিস বেগম এর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যান।

বিলকিসকে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ ৫১ দিন চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বিলকিসের বাবা মোফিজ উদ্দিন বাদী হয়ে আলম শরীফকে একমাত্র আসামি করে এয়ারপোর্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই আলম শরীফ আত্মগোপনে ছিলেন। নিজের নাম-পরিচয় গোপন করে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (ভোটার আইডি কার্ড) জাল করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়ান। রবিবার ঢাকা থেকে এমভি ফারহান লঞ্চে বরিশালে উদ্দেশে যাত্রা করেন বলে গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার ভোর রাতে বরিশাল নদী বন্দর থেকে আলম শরীফকে গ্রেফতার করে।