বরিশালে কোরবানির পশুর সঙ্কট : কাঙ্খিত দাম না পাওয়ার শঙ্কা খামারীদের

প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহায় বরিশালে কোরবানির পশু নিয়ে তৈরি হয়েছে নানাবিধ শঙ্কা। করোনার প্রভাবে একদিকে যেমন পশুর দাম নিয়ে খামারিদের মাঝে দুশ্চিন্তা কাজ করছে, তেমনি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে কোরবানিযোগ্য পশুর সংকট অন্যান্য বছরের মতই বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষ মনে করছেন এবছর তুলনামূলক কমসংখ্যক পশু কোরবানি হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় দাম সহনীয় পর্যায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, বিভাগের ৬ জেলায় ঈদুল আজহায় যে সংখ্যক পশুর চাহিদা থাকে তার তিন ভাগের এক ভাগ স্থানীয় ভাবে মেটানো হয়। বাকি পশুর জন্য নির্ভর করতে হয় আমদানির উপর। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় জানায়, কোরবানিতে বিভাগে চাহিদাযোগ্য পশুর মোট সংখ্যার এক ভাগ রয়েছে খামারিদের হাতে। গত বছর বরিশালের ৬ জেলায় কোরবানি হয়েছিল ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৮৫৬ টি পশু। চামড়া সংগ্রহের ভিত্তিতে এই সংখ্যা নির্ধারণ করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এর মধ্যে ৩ লাখ ১৬ হাজার ২৫ টি গরু-মহিষ এবং ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৫১।

বিগত বছর কোরবানি হওয়া পশুর চেয়ে ৩ ভাগ বেশি ধরে পরবর্তী বছরের পশুর চাহিদা সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। সে অনুযায়ী এ বছরও বরিশালে কোরবানিতে চাহিদা রয়েছে অন্তত সাড়ে ৪ লাখ পশুর। বিপরীতে খামারিদের কাছে থাকা পশুর সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার ৭৪১ টি। ফলে এবছরও স্থানীয়ভাবে পশুর সংকট থেকেই যাচ্ছে।

অন্যদিকে করোনার প্রভাবে এবার কাঙ্খিত দাম না পাওয়া এবং বিপুল সংখ্যক পশু অবিক্রিত থাকার আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশুতোষ রায় জানান, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৮শ ৭২টি গরুর খামারে গবাদিপশু পালন করা হতো। করোনা ভাইরাসের প্রভাব, গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও সংকটের কারণে এবছর অনেক খামার বন্ধ করে দিয়েছেন খামারিরা। এবছর অর্ধেক খামার বন্ধ হয়ে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বর্তমানে ৪শ ৭২টি খামারে ৪৭ হাজার ৫শ ৫০টি গরু, ১৩ হাজার ২শ ৭৫টি ছাগল, ৯শ ১০টি মহিষ, ৬শ ৪৫টি ভেড়া বিক্রির জন্য খামারিদের খামারে মজুদ রয়েছে। তবে পাইকার না আসা ও কোরবানিকে সামনে রেখে স্থায়ী কোন পশুর হাট না থাকায় খামারিরা তাদের পালন করা পশু বিক্রি নিয়ে পড়েছেন মহা দুশ্চিন্তায়।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, করোনার প্রভাবে এবারে বরিশালের প্রেক্ষাপট অনেকটাই ভিন্ন। এ বছর মধ্যবিত্ত শ্রেণীর একটা বড় অংশ কোরবানি নাও দিতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। এর ফলে অবিক্রিত থাকার পাশাপাশি পশুর দামও সহনীয় থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা। প্রসংগত, গত বছর বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন বাজারে ৪০ হাজার ৪২৬ টি গরু-মহিষ এবং ৮ হাজার ৬৩২ টি ছাগল-ভেড়া অবিক্রিত ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বরিশালের বিভাগীয় উপ পরিচালক কানাই লাল স্বর্ণকার জানান, গত বছর কোরবানি দেয়া ব্যক্তিদের এবারও কোরবানি দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে এবারের পশুর চাহিদাও থাকবে গত বারের মতই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া থেকে পশু আমদানি করে চাহিদা মেটানো হয় বরিশালের। এ কারণে স্থানীয় খামারিদের কাছে কম থাকলেও বরিশালে কোরবানিতে পশুর সংকট কখনই হয় না।

Sharing is caring!