বরিশালে করোনাকালে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘ফ্রিল্যান্সিং’


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০২০

শফিক মুন্সি ::

শামীমা আক্তার (২৩) বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকার বাসিন্দা। দুই বছরের সন্তান নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বাস করেন। সেই পরিবারে রয়েছেন শ্বশুর – শ্বাশুড়ি ও কলেজ পড়ুয়া দেবর। স্বামী চাকরি করতেন রাজধানী ঢাকার একটি পোষাক কারখানায়। করোনা পরিস্থিতিতে গত মে মাসে শামীমার স্বামীর চাকরি চলে যায়। বেশ বিপাকে পড়তে হয় তখন পুরো পরিবারটিকে।

এরমধ্যে ফেসবুকে সরকারি লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের তথ্য পান তিনি। দেবরের ল্যাপটপের মাধ্যমে যুক্ত হন সেখানে। প্রায় দুই মাস ব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন বিনামূল্যে। এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। প্রশিক্ষণ শেষ করতে না করতেই কাজের সুযোগ পান প্রশিক্ষণ প্রদানকারী সংস্থার মাধ্যমে। পরবর্তীতে বিনামূল্যের এই প্রশিক্ষণে যুক্ত করেন নিজের দেবরকেও। আর শামীমার মতো এমন গল্প বরিশালের আরো অনেকের।

বরিশালের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার বাস্তবায়ন করছে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প। এ প্রকল্পটির মাধ্যমে তরুণ ও তরুণীদের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে গড়ে তোলা হচ্ছে দক্ষ জনশক্তিতে। এই প্রকল্পের আওতায় একজন প্রশিক্ষণার্থীকে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এগুলো শেখার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অনলাইনে ‘ফ্রিল্যান্সিং’ করার মাধ্যমে আয় করার উপযুক্ত হিসেবে গড়ে ওঠে প্রশিক্ষণার্থীরা।

বরিশাল জেলায় ইনফিনিটি টেকনোলজি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় গত মে মাস থেকে সরকারি এই প্রকল্প শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৩০ টি ব্যাচে প্রায় ৭০০ প্রশিক্ষণার্থীকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শেষ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রত্যেকে ২০০ ঘন্টাব্যাপী (৫০ দিন) প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থী ইতোমধ্যে আয় করা শুরু করেছেন। বাকিরা দ্রুতই উপার্জনের পথ খুঁজে পাবে বলেন জানা গেছে।

তরুণী গৃহবধূূ শামীমা বলেন,‘ প্রশিক্ষণ শেষে প্রথম মাসে প্রায় দশ হাজার টাকা উপার্জন করি। বর্তমানে এই আয় বেড়েছে আরো কয়েকগুণ। আমার দেবরও এখন আয় করা শুরু করেছে প্রশিক্ষণ নিয়ে। মহামারি পরিস্থিতিতে যে আর্থিক অনটনে পড়তে হয়েছিল আমাদের ,তা অনেকাংশেই কেটে গেছে প্রশিক্ষণটি নিয়ে’।

এ ব্যাপারে ইনফিনিটি টেকনোলজির পরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, বরিশাল জেলায় যাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন ইতোমধ্যে আয় করা শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত ৬০ হাজার ডলারের বেশি উপার্জন করেছে তাদের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সকলে। বাংলাদেশী হিসেবে যার পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা। যারা এখনো আয় করতে পারেন নি তারাও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কাজ পেয়ে যাবেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান জানান, লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক তরুণই উদ্যোক্তা হিসেবে আবির্ভূত হবে এবং এ প্রকল্পের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তি খাতে বরিশালের হাজারও তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পটি এ অঞ্চলের বেকার সমস্যা নিরসন করে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে কার্যকর হবে।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ (বরিশাল অঞ্চল) রুবিনা আক্তার মিরা বলেন,‘প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশব্যাপী তরুণেরা ইতোমধ্যে মিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে একটি অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই সফলতার পিছনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সুযোগ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের অবদান অপরিসীম। সত্যিই করোনাকালে লাখো বেকারকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং’।