বরিশালে কঠোর নিরাপত্তায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ- বীর বিক্রম বলেছেন, ‘দুশাসনের অবসান হবে, বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবে। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। দেশব্যাপী নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার বিকালে বরিশাল জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও পূর্বে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।

 

সভায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম গণতন্ত্র রক্ষার জন্য। অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার মধ্যে দিয়ে দেশ স্বাধীন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী দেশের মানুষের গর্বের বিষয়, সেনাবাহিনীকে দেশের মানুষ ভালোবাসে, বিশ^াস করে। তাই তাদেরকে জনগণের আশা আকঙ্খার দিকে লক্ষ রেখে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার পর কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করেনা। স্বাধীনতার সময় ছিলাম ৮০ হাজার, আর এখন হয়েছে আড়াই লাখ। আবার যাচাই করে যাদের বাদ দেয়া হচ্ছে তাদের বেশিরভাগই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। যিনি দেশের মানুষের ভালোবাসা নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন আজ সেই শহীদ প্রেসিডেন্টের পদকও কেড়ে নেয়ার অপচেষ্টা চলছে।

মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, বর্তমান সরকারের অপকর্ম আল জাজিরা ফাঁস করে দিয়েছে। সেই ঘটনা আড়াল করতেই আওয়ামী লীগ এখন সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে শহীদ জিয়ার মুক্তিযোদ্ধা পদক বাতিলের ষড়যন্ত্র করছে। পদক বাতিল করা হলেও দেশের জনগণের হৃদয় থেকে শহীদ জিয়ার নামটি মুছে ফেলতে পারবে না। তাই শহীদ জিয়ার পদক নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র হলে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

 

সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘নিশি ভোটের আগের দিন রাতে পুলিশী ভয় দেখিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ভোট করেছে সরকার। ৬ সিটি নির্বাচনে ৩১ জন প্রার্থীকে আহত করেছে। আজ অনুমতি দিয়েও বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বিএনপি নেতৃবৃন্দদের সমাবেশে আসতে দেয়া হয়নি। একদিকে তারা মিটিং করতে অনুমতি দিচ্ছে, অন্যদিকে পুলিশ দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। জণগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য আরো একবার দেশের জনগণকে জেগে উঠতে হবে।
অপরদিকে, বিশেষ অতিথি’র বক্তৃতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাত ধরে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। জনগণের ভোটে আসার সুযোগ নেই বলেই বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে আওয়ামী লীগ। আমরা পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবি জানাই এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই।

 

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আওয়াল বলেন, ‘দিন দিন জালিম সরকার স্বাভাবিক নির্বাচন হতে দিচ্ছে না। কোন নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে পারছে না। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বলে তারা দুর্নীতির সাথে আপোস করে না। কিন্তু তারা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সমস্ত সিটি কর্পোরেশনগুলোকে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার স্বপ্ন দেখছে সরকার। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই, মাফিয়া সরকারের অধীনে নয়।’

 

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘বিচার বিভাগ আর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর আলাদা কি-না সেটা জানতে চাই। আমরা নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ চাই এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন চাই। কেননা এই কমিশন এবং অবৈধ সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনই সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হবে না।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘৬টি সিটি কর্পোরেশনে মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সমাবেশ শুরু করেছি। মাফিয়া সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। তাই শেখ হাসিনার অধীনে আর কোন নির্বাচনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
বিক্ষোভ সমাবেশে বিশেষ অতিথি’র বক্তৃতায় বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন বলেন, ‘চোর না শোনে ধর্মের কাহিনী, আজ চোর চোট্টা দিয়ে দেশ চালানো হচ্ছে। সমাবেশস্থলে আসতে আজ পথে পথে বাধা দেয়া হচ্ছে। নেতাকর্মীদের মারধর করা হচ্ছে। ভোলার নেতাকর্মীদের আসতে দেয়া হয়নি। সমাবেশস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

 

তার পরও নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখা যায়নি। যাবেও না। এ সরকারের পতন ঘটিয়েই বিএনপি দেশের জনগণের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন, উত্তর জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদসহ বরিশাল মহানগর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা বিএনপি’র সভাপতি-সম্পাদকরা বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া সমাবেশে সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার, মহানগর বিএনপি নেতা ও বিসিসি’র কাউন্সিলর মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম রতন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে নগরীর জিলা স্কুল মাঠে শুরু হয় বিএনপি’র বরিশাল বিভাগীয় বিক্ষোভ সমাবেশ। যা শেষ হয় মাগরিবের নামাজের পূর্বে।

 

সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকেই সমাবেশস্থলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান। সেই সাথে শহরের বান্দ রোড প্লানেট পার্ক, ক্লাব রোড, ফজলুল হক এভিনিউ, বগুরা রোড, পুলিশ লাইন সড়ক এবং সদর রোডের বিবির পুকুরের উত্তরপাড় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

এছাড়া শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী তল্লাশী চৌকী বসানো হয়। সমাবেশকে ঘিরে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্যই পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় বলে জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।