বরিশালের সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশালের ‘প্রিয়মুখ’ ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। গত বছরের এই দিনে (১৬ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

প্রসংগত, ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখে দায়িত্ব পালনকালে বেপরোয়া গতির কাভার্ড ভ্যানের চাপায় গুরুতর আহত হন সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন প্রিয় ব্যক্তিত্ব
সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। পরবর্তীতে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

মরহুম ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী সার্জেন্ট মৌসুমীও তার ব্যাচমেট ছিলেন। দুজনে একই সাথে ২০১৫ সালে ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসেবে পুলিশে যোগদান করেন। পরে পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়। কিবরিয়া ও মৌসুমী দম্পতির ঘরে সাহান মাহমুদ ওহী নামে ৩ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

তার অনাকাঙ্খিত এই মৃত্যুর ঘটনায় সহকর্মীসহ গোটা বরিশালবাসী শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার ব্যাচমেট ও সহকর্মীরা স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই। এদের মধ্যে সার্জেন্ট মোঃ রানা মিয়া, সার্জেন্ট আবু বকর সিদ্দিক, সার্জেন্ট তাওহীদ মোর্শেদ টুটুল, সার্জেন্ট মোঃ শহিদুল ইসলাম, সার্জেন্ট মোঃ তারিকুল ইসলাম,সার্জেন্ট রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা।

প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মরহুম ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী সার্জেন্ট মৌসুমী কিবরিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার শূন্যতা প্রকাশ করার মত ভাষা আমার নেই। গত এক বছর যাবত প্রতিটি মুহূর্তে কিবরিয়ার স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তার জন্য সব সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করি। মাঝে মাঝে এতিমদের খাবার খাওয়াই, সাধ্যমত তার জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান করার চেষ্টা করি ।

মৌসুমী কিবরিয়া আরও বলেন, সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে যখন বাসায় আসি, আমার ৩ বছরের ছেলে সাহান মাহমুদ ওহী ওয়্যারলেস এর শব্দ শুনলেই মনে করে বাবা এসেছে। কিবরিয়াকে চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে ঢাকায় নেয়ার কথা আমার ছেলের মনে আছে। ঘরে একটি খেলনা হেলিকপ্টার আছে সেটা নিয়ে খেলার সময় বলে, “বাবা ভুম এটায় চড়ে গেছে, আবার আসবে কবে”।

অবুঝ শিশুর এই আকুতি শুনে খুব খারাপ লাগে। সবাই কিবরিয়ার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমার স্বামীকে জান্নাতুল ফেরদাউসে নসিব করেন।
স্মৃতিচারণ করে এসি (ট্রাফিক) মোঃ মাসুদ রানা বলেন, পেশাগত দুায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন। ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে গাড়ি যাওয়ার সময় সেটাকে আটক করতে গিয়ে সার্জেন্ট কিবরিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এমন মৃত্যু কাম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, সাড়া দেশের সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা করতেই পুলিশ কাজ করে এবং দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক পুলিশ সদস্য জীবন দেন। চালক, পথচারী ও মালিক সমিতিসহ সকলের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে সবাই ট্রাফিক আইন মেনে চলুন ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করুন।

এ বিষয়ে টিআই মোঃ আঃ রহীম বলেন, সার্জেন্ট কিবরিয়া পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন। ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং তার পরিবারের জন্য দোয়া করি।

তবে এমন ঘটনা আগামীতে যেন না ঘটে সেজন্য সবাইকে আরও বেশি সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি চালক-পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিকল্প পথ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Sharing is caring!