বরিশালের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবীতে হাইকোর্টে রিট

প্রকাশিত: ৯:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ::

ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীতে কর্মরতদের কেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের শূন্য পদে নিয়োগ দিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

বরিশাল সদর উপজেলার ১০১ জন ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির সদস্যের দায়ের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে এই রুল জারি করা হয়েছে। ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংস্থাপন সচিব, শিক্ষা সচিব, যুব ও ক্রীড়া সচিবসহ ৬ জনকে এই রুলের জবাব দিতে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানী করেন সুপ্রিম কোর্ট এর আইনজীবী ব্যারিস্টার অরুণাভ দাশ শুভ্র।

বিগত ২০১৪ সালের ৩ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি শিক্ষক পুল নীতিমালা ২০১৪ জারি করে। এতে বলা হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলভুক্ত শিক্ষক ও ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। ওই সময় তাদের সমপর্যায়ের স্বীকৃতি দেয়া হয়।

এর মধ্যে পুলভুক্ত শিক্ষকরা হইকোর্টে রিট দায়ের করলে তাদের শিক্ষক পদে নিয়োগের বিষয়টি সরকার বাস্তবায়ন করে। কিন্তু ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির সদস্যরা উপেক্ষিত থেকে যান। তারা বিদ্যমান শূন্য পদে নিয়োগ না পাওয়ায় এই রিট দায়ের করেন।

রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার অরুণাভ দাশ শুভ্র বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় পুলভুক্ত শিক্ষকদের মতো ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির সদস্যদের সমপর্যায়ের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া হলেও ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির চাকরিজীবীদের সহকারী শিক্ষক হিসেবে শূন্য পদে এখনো নিয়োগ দেয়া হয়নি।

ব্যারিস্টার শুভ্র আরও বলেন, আমরা এর আগেও বরগুনার ৭১৩ জন আবেদনকারীর পক্ষে মহামান্য আদালতের সামনে এটা উপস্থাপন করি, সেখানেও মহামান্য আদালত রুল জারি করেছিলেন। ন্যাশনাল সার্ভিসে যারা কর্মরত ছিলেন তাদের কোথাও জায়গা না দেয়াটা বৈষম্যমূলক এবং আবেদনকারীদের আইনগত প্রত্যাশার পরিপন্থী। তাই আদালত সোমবার রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন (হাইকোর্টের রুল নং ৭১৫৮/২০২০)।

Sharing is caring!