বরিশালের কুন্দিয়ালপাড়ায় মুরগী নিয়ে দ্বন্দ্বে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশিত: ১০:২৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশাল সদর উপজেলার কুন্দিয়ালপাড়ায় ভাসুর ও তার পরিবারের হামলার শিকার গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামলায় আহত স্বামীকে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নিহত গৃহবধূ নাসিমা বেগম (৫৫) মহানগরীর বন্দর থানাধীন সদর উপজেলার কুন্দিয়ালপাড়া এলাকার এনছান শরীফ এর স্ত্রী। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রাতেই শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর থানা) শামীমা সুলতানা রাখিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

 

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, পালিত মুরগী নিয়ে গত ২৯ ডিসেম্বর আপন বড় ভাই সুলতান শরীফ এর সাথে বিরোধ হয় ছোট বাই এনছান শরীফের। সুলতান শরীফ তার ভাই এনছান শরীফের পালিত মুরগী মেরে ফেলায় তা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। আহত এনছান শরীফ জানিয়েছেন, মুরগী মেরে ফেলার প্রতিবাদ করায় ঘটনার দিন অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে বড় ভাই সুলতান শরীফ ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে ঝগড়া বাধে। এর জের ধরে সুলতান শরীফ, তার ছেলে জাকির শরীফ, জলিল শরীফ, রাসেল শরীফ, এনিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মিলে এনছান শরীফ ও তার স্ত্রীর ওপর অতর্কিত হামলা করেন।

এতে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই গুরুতর আহত হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদেরকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে গৃহবধূ নাসিমা বেগম এর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওই রাতেই তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরে শনিবার রাতে গৃহবধূ নাসিমা বেগমের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রাতেই শেবাচিম হাসপাতালের মৃতদেহ পরিদর্শনে যান সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার শামীমা সুলতানা রাখিসহ বন্দর থানা পুলিশের একটি টিম। এসময় তারা হামলার ঘটনায় আহতের কাছ থেকে ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন।

এসময় সহকারী পুলিশ কমিশনার রাখি জানান, হামলা এবং হতাহতের ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে এই ঘটনায় মামলা করতে বলা হয়েছে। এছাড়া নিহত গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে সুরত হাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।