বরিশালের ঐতিহ্যবাহী পাবলিক লাইব্রেরি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ১০:৫১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১

খবর বিজ্ঞপ্তি ॥ ঐতিহ্যবাহী বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরির ভূমি রক্ষা ও উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এ লক্ষ্যে বুধবার লাইব্রেরির সম্মুখে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরিশাল জেলা উন্নয়ন, পরিবেশ ও ঐতিহ্য সুরক্ষা কমিটির আয়োজনে এ কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরির আজীবন সদস্য অধ্যাপক নজরুল হক নিলু। বরিশাল জেলা উন্নয়ন, পরিবেশ ও ঐতিহ্য সুরক্ষা কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানে ৩০ হাজারেরও বেশি দুর্লভ বই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। লাইব্রেরির পিছনের জমিতে একটি পাবলিক হল নির্মাণের দাবী বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেই জমি দখল করে সেখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ করার পাঁয়তারা চলছে। কতিপয় মতলববাজ নেপথ্যে থেকে এর ইন্ধন যোগাচ্ছে।

 

বক্তারা বলেন, পাবলিক লাইব্রেরির জমি অন্য কোন প্রতিষ্ঠান দখল করলে বরিশালবাসী তা প্রতিহত করবে। তারা বরিশালের প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় আইনের আশ্রয় নেয়া হবে। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম হাবুল, গ্রীন মুভমেন্ট এর জেলা সমন্বয়ক মিজানুর রহমান ফিরোজ, লাইব্রেরির সদস্য মোজাম্মেল হক ফিরোজ, অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান খোকন, অধ্যক্ষ হানিফ হোসেন তালুকদার, শাহ আজিজুর রহমান খোকন, কবি আ. গফফার খান, শিবানী চৌধুরী, আলতাফ হোসেন ভাট্টি, জুয়েল রানা প্রমুখ।

 

পরে আন্দোলনকারীরা লাইব্রেরির পিছনের জমিতে ভিত বসানোর কাজ বন্ধ করে দেন। আন্দোলনের নেতৃত্বে দেয়া অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল জানান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে পাবলিক লাইব্রেরির জমিতে কোন অধিকারে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ভবন করা হচ্ছে তা জানতে চেয়েছেন।

 

প্রসঙ্গত, ১৮৫৪ সালে স্থাপিত বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরির আজীবন সদস্য দুই হাজার। সংরক্ষণের অভাবে লাইব্রেরির ৩০ হাজার বই নষ্ট হওয়ার পথে। সেখানকার একমাত্র কর্মচারী শহীদ হোসেন জানান, ৩৫ বছর আগ থেকে তিনি এ প্রতিষ্ঠানে চাকরী করছেন। এক সময়ে দুজন লাইব্রেরিয়ান ও বিভিন্ন পদে ৫ জন কর্মচারী ছিলেন। পাঠক আসতেন প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক।