বরিশালসহ সারাদেশে পণ্যবাহী নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি শুরু

প্রকাশিত: ৮:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥
নৌ-পথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী বন্ধ, খাদ্যভাতা প্রদানসহ ১১ দফা দাবিতে বরিশালসহ সারা দেশে নৌ পথে কর্মবিরতি পালন শুরু করেছেন নৌযান শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় এ ধর্মঘট।

১১ দফা দাবি পূরণের বিষয়ে কোন সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের বরিশাল অঞ্চলের সভাপতি শেখ আবুল হাসেম।

তিনি জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবথেকে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার কারণে আপাতত যাত্রীবাহী নৌযান কর্মসূচির বাহিরে রাখা হয়েছে। তবে সোমবার দিবাগত রাত ১২ টা ১ মিনিট অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে সকল পণ্যবাহী নৌযান বন্ধ রেখেছেন বরিশালের শ্রমিকরা।

আর এটি শুধু বরিশালেই নয়, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারাদেশে পণ্যবাহী নৌযান শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন কর্মসূচি চলবে।

তিনি বলেন, আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না করে জুলুম-নির্যাতন, হামলা-মামলা করা হলে যাত্রীবাহী নৌযান শ্রমিকরাও কর্মবিরতি শুরু করবেন। বরিশালে শ্রমিকদের দাবি আদায়ের এ আন্দোলনে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে কর্মবিরতির আওতার বাহিরে থাকায় সকাল থেকে বরিশালে অভ্যন্তরীণ রুটের নৌযানগুলো স্বাভাবিক নিয়মে চলাচল করছে।

বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশন বরিশাল অঞ্চলের সভাপতি শেখ আবুল হাসেম বলেন, ১১ দফা দাবির প্রতিটিই শ্রমিকদের জন্য যৌক্তিক। দাবিগুলোর বাস্তবায়ন এখন সকল শ্রমিকরা চান। তাই দাবি আদায়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

উল্লেখ্য, ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, নৌযান শ্রমিকদের পরিচয় পত্র, নিয়োগ পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান করা, শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সকল শ্রমিকদের ফ্রি খাদ্য ভাতা প্রদান, ভারতগামী জাহাজের ল্যান্ডিং পাসসহ সেখানে থাকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নদীপথে সকল ধরনের চাঁদাবাজী-সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করা, নদীর নাব্যতা রক্ষা করা, পরীক্ষা বোর্ডের দুর্নীতি ও মেরিন কোর্টের হয়রানি বন্ধ করা, কথায় কথায় শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ ও প্রভিডেন্ট ভান্ড চালু করা, জাহাজে কর্মরত অবস্থায় শ্রমিকরা মৃত্যুবরণ করলে তাদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।

Sharing is caring!