বরগুনায় হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীকে হত্যার হুমকি! ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০২০

তরিকুল ইসলাম রতন, বরগুনা প্রতিনিধি ॥
বরগুনায় হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীকে হত্যার হুমকি দেওয়ায় ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন।
শনিবার (দুপুর দুই টার সময় বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময়ে বাদী পক্ষের আপন বড় ভাই গোলাম মোস্তফা লিখিত বক্তাব্যে পাঠ করে বলেন,বাদী হত্যা মামলা তুলে না নিলে বোনের মত তার ভাইকেও হত্যা করা হবে।

তিনি বলেন, আমার বোন তামান্না বেগমকে তিন বছর আগে বরগুনা সদর উপজেলার ছোট গৌরীচন্না গ্রামের খোকন মীরের ছেলে শহিদ মীরের নিকট বিয়ে দেই।
বিয়ের পর থেকে বখাটে শহিদ ও তার পরিবার খোকন মীর, তাসলিমা মীর, তানজিল মীর ও তাইমুন মীর এক লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে বিভিন্ন সময় আমার বোনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে।

সর্বশেষ এ বছরের ২১ জুলাই সকাল সাড়ে ৮ টার সময় শহিদ মীর ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুকের দাবীতে তামান্নাকে পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
মুমূর্ষু অস্থায় প্রথমে আমি তামান্নাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করাই। পরে তার অবস্থা অবনতি হলে বরগুনা থেকে ২৪ জুলাই বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তামান্নাকে ৬ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে নেওয়া হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৫ নভেম্বর তামান্না মারা যায়।

তিনি আরও বলেন, বরগুনা থানায় গত ১ আগস্ট প্রথমে যৌতুকের দাবীতে তামান্নাকে নির্যাতন করার জন্যে আমরা একটি মামলা করেছি।
পুলিশ আসামী খোকনকে গ্রেফতারও করেছে এবং এই মামলায় শহিদ আদালতে হাজির হলে বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠান।
কিন্তু এই মামলার অন্য আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করছে না। পুলিশের সাথে আসামীদের গভীর সম্পর্ক।
আসামী খোকন মীর গত ৮ নভেম্বর জামিনে বের হয়ে আমাকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দেয়।

এবং গত শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) বেলা ১১ টায় খোকন মীর লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়ীতে গিয়ে আমাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বলে মামলা তুলে নিতে। মামলা না উঠালে আমাকেও হত্যার হুমকি দেয়। আমাকে বলে মামলা না তুলে বরগুনা আসলে তোমার বোনের মত তোমারও পরিণতি খারাপ হবে। আমার বাড়ি অন্য উপজেলায় তাই এখন জীবননাশের হুমকির মুখে আছি।

পুলিশ অন্য আসামীদের গ্রেফতার না করার কারণে খোকন মীর আমাকে আজ হত্যার হুমকি দিতে সাহস পেয়েছে। তা না হলে এই সাহস তারা পেতো না। পুলিশের এই রহস্যজনক ভূমিকায় আমি হতবাক হয়েছি। তারা আইনের লোক হয়ে আসামীদেরকে ছাড় দিচ্ছে। পুলিশের নাকের ডগায় হত্যা মামলার আসামীরা দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ পুলিশ আসামীদেরকে গ্রেফতার করছে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, নিহত তামান্নার বাবা আবদুল মজিদ, বোন তানিয়া, বোন রাহিমা, ভাই কামাল ও ভাবী শারমিন মুন্নি।
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই হেলাল উদ্দিন জানান, তামান্না মারা যাওয়ার সেই ময়না তদন্তের রিপোর্ট আমি এখনও পাইনি।
অন্য আসামীরা পলাতক থাকায় তাদেরকে গ্রেফতার করতে পারছি না।

তিনি আরও জানান, এই মামলার বাকী আসামীদেরকেও গ্রেফতারের জন্যে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।