বরগুনায় যুবলীগ কর্মী হত্যা মামলায় চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

প্রকাশিত: ১১:২০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১

তরিকুল ইসলাম রতন, স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরগুনায় যুবলীগ কর্মী শামীম ইমতিয়াজ ওরফে বাদশা হত্যা মামলায় চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান সহ ছয় জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইয়াসির আরাফাত এ অভিযোগ পত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। সিদ্দিকুর রহমান বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ৬ নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান। গত ৭ জানুয়ারি আলোচিত এই হত্যা মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অভিযোগপত্র জমা দেয়।

 

এ মামলার অন্য অভিযোগযুক্ত আসামীরা হলেন, জাকারিয়া, মহসিন সরদার, সাবু ফকির, আল-আমিন গাজী, রাকিব সরদার, সাবু সরদার, মতলেব সরদার,মাহবুব সরদার, আল-আমিন আকন,নাসরিন বেগম, সেয়ারা বেগম, মাহতাব সরদার ও আল আমিন গাজী।

 

নিহত বাদশা বরগুনা সদর উপজেলা য্বুলীগের সদস্য- এবং তিনি ৬ নং বুড়িরচর ইউনিয়নের সোহরাব মৃধার ছেলে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা আলোচিত যুবলীগ কর্মী বাদশা হত্যা মামলার পলাতক ৬ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
এছাড়া দুই আসামি স্থায়ী জামিনের জন্য আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
বরগুনা সদর থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম এই হত্যা মামলার প্রথম তদন্ত করেন। পরে তার বদলি হওয়ার কারণে এ মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কে।

 

সে সময়কার সিআইডির পরিদর্শক জুলফিকার প্রায় এক বছর তদন্ত করেও অভিযোগপত্র দিতে পারেননি। পরে তদন্তভার দেয়া হয় সিআইডির আরেক উপ-পরিদর্শক সেলিম সরদারকে।
গত ৭ জানুয়ারি তিনি তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পুলিশ জানায়, ২০১৯ সালের ৮ জানুয়ারি রাত আটটার দিকে শামীম ইমতিয়াজ বাদশাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের কামড়াবাদ এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরের দিন বরগুনা সদর থানায় গত ৯ জানুয়ারি নিহত বাদশার বাবা সোহরাব মৃধা ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, মহসিন নামের এক যুবকের সঙ্গে বাদশার বাবা সোহরাব মৃধার কথা-কাটাকাটি হয়। এসময় সোহরাব মৃধাকে মারধর করেন মহসিন ও তার সহযোগীরা। বাবাকে মারধরের প্রতিবাদ করায় মহসিনের লোকজন মিলে বাদশাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় বাদশা দৌড়ে পাশের অটোরিকশা স্ট্যান্ডে যান এবং মুঠোফোনে তাঁর বাবাকে সবকিছু জানান। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বাদশাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
কর্তব্যরত চিকিৎসক তখন বাদশাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

এবিষয়ে নিহত বাদশার বাবা বাদি সোহরাব মৃধার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে এবং যারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদেরকে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
তিনি আরও জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে আমার সন্তান হত্যার সুবিচারের জন্যে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমি হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। এখন কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছি।

মনে হচ্ছে সন্তান হত্যার সু-বিচার পাবো। আমি বাবা হয়ে যখন আমার কাঁধে সন্তানের লাশ নিয়ে যাই তখন আমার বুক ফেটে চৌচির হয়ে যায়। এর মতো কষ্ট দুনিয়াতে আর নেই। এখন কিছুটা হলেও আমি সন্তুষ্ট কিন্তু আসামীদের স্বজনরা আমাকে মেরে ফেলার জন্যে হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এব্যাপারে আসামী বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ৬ নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানের কাছে জানার জন্যে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।