এবার শ্বশুর সম্পর্কে যা বললেন মিন্নি

প্রকাশিত: ৮:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০১৯

বার্তা ডেস্ক ॥ বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি গতকাল রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শনিবার রাতে তাঁর শ্বশুরের সংবাদ সম্মেলন এবং গতকাল সকালে তাঁর বিরুদ্ধে মানববন্ধনের পর তিনি এই পদক্ষেপ নেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে মিন্নি মাইঠা গ্রামে তাঁর বাবার বাড়িতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, যারা বরগুনায় ‘বন্ড ০০৭’ নামে সন্ত্রাসী গ্রুপ সৃষ্টি করিয়েছিলেন, তাঁরা খুবই ক্ষমতাবান ও বিত্তশালী। নেপথ্যের এই ক্ষমতাবানেরা বিচারের আওতা থেকে দূরে থাকা ও এই হত্যা মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য শ্বশুরকে চাপ দিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করিয়েছেন। আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি অভিযোগ করেন, ‘নয়ন বন্ড একজন মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে অনেক মামলা ছিল। সে আমাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করত। আমার ছোট ভাই ও বাবাকে হত্যার হুমকি দিত। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কখনো মুখ খোলার সাহস পাইনি।’ তিনি বলেন, ‘আমার শ্বশুর অসুস্থ। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমার স্বামীকে হত্যার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে নিয়ে নেতিবাচক, কুরুচিপূর্ণ নানা পোস্ট এবং এডিট করা ছবি আপলোড করে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর মূল উদ্দেশ্য এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা। কারণ, ০০৭ সন্ত্রাসী গ্রুপটি যারা সৃষ্টি করেছিলেন, তাঁরা খুবই ক্ষমতাবান ও বিত্তশালী।’ রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নি ঘটনার দিন নিজের ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঘটনার দিন আমার স্বামীকে কোপানোর সময় আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি তাঁকে বাঁচাতে। এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করেছি। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় আমিই রিকশায় করে রিফাত শরীফকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। যখন চিকিৎসকেরা তাঁকে বরিশালে পাঠাতে বলেন, তা শুনে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরলে আমি জানতে পারি তাঁকে (রিফাত শরীফ) বরিশালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ ফেসবুকে আপনার নামে গত ২৭ জুন ১১টি আইডি দেখা যায়, শনিবার রাতেও চারটি আইডির সন্ধান পাওয়া যায়-এগুলো কি আপনার? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মিন্নি বলেন, ‘এগুলো সবই ষড়যন্ত্র। কোনো সুস্থ ব্যক্তি এটা করে? আমাকে নেতিবাচকভাবে প্রচারের জন্যই এসব করা হয়েছে। এসব কারা করেছে, তা তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে।’ রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়নদের বাড়িতে যাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মিন্নি বলেন, ‘এটা মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। আর নয়ন বন্ডের সঙ্গে আমার যে আগে বিয়ে হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে, সেটাও মিথ্যা। কারণ, নয়ন বন্ড আমাকে জোর করে ধরে একটি বাড়িতে নিয়ে একটা কাগজে সই রেখেছিল। এরপর কী করেছে সেটা জানি না। পরে শুনি সেটা বিয়ের কাবিননামা।’ এদিকে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল বেলা ১১টায় বরগুনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রিফাত হত্যায় তাঁর স্ত্রী মিন্নি জড়িত। ‘বরগুনার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন করা হয়। এতে অংশ নেন রিফাতের বাবা আবদুল হালিম শরীফ। মানববন্ধনে রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ, চাচা আবদুল আজিজ শরীফ, আবদুস সালাম শরীফ, বরগুনা জেলা আ’লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং বরগুনা সদর আসনের সাংসদের ছেলে সুনাম দেবনাথ, সদর উপজেলা আ’লীগের নেতা মারুফ মৃধা প্রমুখ বক্তব্য দেন। সমাবেশে রিফাত শরীফের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার পেছনে মিন্নির হাত আছে বলে আমরা মনে করি। তাঁকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এই হত্যার মূল রহস্য বের হয়ে আসব।’ মিন্নির বিরুদ্ধে ওঠা আনা এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, ‘বিষয়গুলো আমরা দেখব। মামলাটি তদন্ত হচ্ছে। আর তদন্ত হলো একটি সাবলীল, নিরপেক্ষ বিষয়। অনেকে অনেক কথা বলতে পারেন। সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচারের স্বার্থে যা যা করা দরকার, সেটা করা হবে।’

Sharing is caring!