বরগুনায় প্রেমিকের হারিয়ে যাওয়া ফোনে স্বামীর খুনের রহস্য উদঘাটন

প্রকাশিত: ৯:০১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১

তরিকুল ইসলাম রতন, স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরগুনায় স্বামীর খুনের রহস্য উদঘাটন হলো পরকীয়া প্রেমিকের হারিয়ে যাওয়া ফোনের মাধ্যমে। জানা যায়, গত বছরের ২৩ মে রাতে মৃত্যুবরণ করেন বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের গয়েজ উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন।

তিনি ছিলেন বরগুনার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। নিহত নাসিরের স্ত্রী মিতুর কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নাসিরের মৃত্যু হয়। খবর পাওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই তার মরদেহের দাফন সম্পন্ন করেন নাসিরের স্বজনরা।
নয় মাস পরে এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয় মিতুর পরকীয়া প্রেমিক রাজুর হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে।

 

নিহত নাসিরকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার কথোপকথনের রেকর্ডিং পান নাসিরের স্বজনরা তার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। পরে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ নাসিরের স্ত্রী ফাতেমা মিতু (২৪) এবং মিতুর পরকীয়া প্রেমিক রাজু মিয়াকে (২০) গ্রেফতার করে।
বরগুনা পৌরসভার থানাপাড়া এলাকার মোঃ মাহতাব হোসেনের মেয়ে ফাতেমা মিতু এবং মিতুর পরকীয়া প্রেমিক রাজু মিয়া ঢলুয়া ইউনিয়নের গুলবুনিয়া এলাকার বারেক মিয়ার ছেলে।

 

এই অভিযুক্তদেরকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গির মল্লিক বলেন, গত বছরের ২৩ মে ঈদুল ফিতরের আগের দিন রাতে স্বজনরা নাসিরের মৃত্যুর খবর পান। পরবর্তীতে নাসিরের স্বজনরা স্বাভাবিক মৃত্যু জেনে তাকে স্বাভাবিক নিয়মেই দাফন করেন। ঘটনার আট মাস ১৯ দিন পর তার স্বজনরা জানতে পারেন- নাসিরের স্ত্রী ফাতেমা মিতু ও তার পরকীয়া প্রেমিক রাজু নাসিরকে পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে কম্বল চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় নাসিরের বড় ভাই মোঃ জলিল হাওলাদার বরগুনা সদর থানায় অভিযোগ করেন। পরে সেই অভিযোগের আলোকে পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তকালে এঘটনার প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়ায় নাসিরের স্ত্রী ফাতেমা মিতু ও তার পরকীয়া প্রেমিক রাজুকে গ্রেফতার করা হয়।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফাতেমা মিতুর পরকীয়া প্রেমিক রাজুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বরগুনার একটি দোকানে চার্জে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তার মোবাইলটি হারিয়ে যায়। হারিয়ে যাওয়া ফোনে নাসিরকে হত্যার পরিকল্পনা এবং পরবর্তী বিষয়ে রাজু ও মিতুর কথোপকথনের রেকর্ড জমা থাকে। পরে নাসিরের স্বজনরা হারিয়ে যাওয়া ওই ফোনের কথোপকথন পান। এর প্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ করেন নাসিরের বড় ভাই জলিল হাওলাদার। গত বৃহস্পতিবার এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভোররাতে পুলিশ চিরুণী অভিযান চালিয়ে রাজু ও মিতুকে গ্রেফতার করে।

 

এ বিষয়ে নিহত নাসিরের বড় ভাই মামলার বাদি জলিল হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মিতুর কাছে আমার ভাই নাসিরের হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর খবর পাই। তখনও আমাদের কোন সন্দেহ হয়নি। তাই স্বাভাবিক নিয়মেই আমরা নাসিরকে দাফন করি। এ ঘটনার গত নয় মাসেরও বেশি সময় পর আমরা মিতু ও তার পরকীয়া প্রেমিক রাজুর মোবাইল ফোনে কথোপকথনের বেশ কয়েকটি রেকর্ড পাই। সে রেকর্ডে নাসিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের কথোপকথন রয়েছে। তখন আমরা নাসিরকে যে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়টি নিশ্চিত হই।

পরে আমরা পুলিশের কাছে ওদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করি। সেই অভিযোগের আলোকে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে।
আমরা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এর বিচার দাবী করছি।