বরগুনায় নির্মাণাধীন ট্যাংকির দূষিত পানিতে ২৫ লাখ টাকার মাছ নিধন : নিঃস্ব ইজারাদার

প্রকাশিত: ১১:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০

তরিকুল ইসলাম রতন, বরগুনা প্রতিনিধি :
বরগুনায় দূষিত পানিতে জেলা প্রশাসনের পুকুরে ২৫ লাখ টাকার মাছ মারা যাওয়ায় হতাশ ইজারাদার।

জানা যায়, জেলা প্রশাসনের দীঘিতে আকস্মিকভাবে পৌর পানি সরবরাহের ট্যাংকির দূষিত পানি ছেড়ে দেয়ায় বিষাক্ত গ্যাস সৃষ্টি হয়ে প্রায় (২৫) লাখ টাকার মাছ মারা যায়। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েন এই পুকুরের ইজারা নেওয়া মৎস্য ব্যবসায়ী।

জেলা প্রশাসনের এই দীঘিটি রিয়াদ নামের একজন ব্যবসায়ী ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন।

এবং এই পুকুরের পারেই পৌরসভার নির্মাণাধীন পানির ট্যাংকি। সেই ট্যাংকির কেমিক্যাল মিশ্রিত দূষিত পানি পুকুরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে গত তিন দিন ধরে পুকুরের পানিতে বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়। যার কারণে পুকুরে চাষ করা প্রায় ২৫ লাখ টাকার নানা প্রজাতির মাছ মরে গিয়ে ভেসে ওঠে।
ভুক্তভোগী মৎস্য চাষী মো. রিয়াদ বলেন, আমি বরগুনা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে তিন বছরের জন্যে ৮ লাখ টাকায় এই পুকুরটি মাছ চাষের জন্যে ইজারা হিসেবে নেই এবং মাছের চাষ শুরু করি।

এই পুকুরটির পশ্চিম পাশে বরগুনা পৌরসভার নির্মাণাধীন পানির ট্যাংকির কেমিক্যাল মিশ্রিত দূষিত পানি পাইপ দিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে পুকুরে ছেড়ে দেয়। জেলা প্রশাসন এই পুকুরের প্রকৃত মালিক। তাকে কিছু না জানিয়ে এভাবে পরপর দুই বার ট্যাংকির বিষাক্ত পানি তারা পুকুরে ছেড়ে দেয়। যার ফলে গোটা পুকুরের পানিতে দূষণের সৃষ্টি হয়। আর এ দূষণের ফলেই পুকুরের সকল মাছ মরে ভেসে ওঠে।

তিনি আরও জানান, এই পুকুরে মাছ চাষে আমার এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। খাবার ও ওষুধের দোকানে কয়েক লাখ টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে। মাছ বিক্রি করে টাকা শোধ করার চুক্তিতে দোকান থেকে বাকিতে খাবার ও ওষুধ কিনেছি। সব শেষ হয়ে আমি এখন নিঃস্ব। ব্যবসা তো নাই কিন্তু দোকানের বাকী কি করে পরিশোধ করবো আমি তা জানি না।

এ বিষয়ে বরগুনা পৌরসভার পানির ট্যাংকি নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাজধানী ঢাকার রমনা এলাকার জিলানী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী কাজী মোঃ জিলান হায়দার মুঠোফোনে বলেন, ‘নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় লিকেজ আছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য আমরা ট্যাংকিতে পানি ভরেছিলাম। ওই পুকুরটি যে ইজারা নিয়ে কেউ মাছ চাষ করছে এটা আমাদের জানা ছিলোনা। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত ওই মাছচাষীর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।

এ ঘটনার পর বরগুনা পৌরসভার মেয়র মোঃ শাহাদাত হোসেন ও বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ সরেজমিনে পুকুরটি পরিদর্শন করে মাছ ব্যবসায়ীকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

এঘটনায় বরগুনা পৌরসভার মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ট্যাংকি ‘নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ভুলে মাছ ব্যবসায়ীর বিশাল ক্ষতি হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য ব্যবসায়ীকে কিভাবে সহায়তা করা যায় এ নিয়ে আমরা দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এবং ভালো একটা রেজাল্ট আশা করা যায়।
বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, সরজমিনে গিয়ে আমরা ওই পুকুরের পানি ও মাছের অবস্থা দেখেছি। ক্ষতিগ্রস্ত ইজারাদার ও মৎস্যব্যবসায়ী যাতে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সে বিষয়ে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করবো বলেও তিনি জানান।

Sharing is caring!