বরগুনায় নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২০

তরিকুল ইসলাম রতন, বরগুনা জেলা প্রতিনিধি  ::

বরগুনা সদর উপজেলার এক নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সরকারি সহায়তার নামে এলাকার বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফাতিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে রেশন কার্ড, প্রতিবন্ধী কার্ড, জেলে কার্ড ও সরকারি ঘরসহ বিভিন্ন নামে- বেনামে সরকারি সহায়তা দেওয়ার কথা বলে গরীব অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফাতিমা নাসরিন ও তার স্বামী মানিক হাওলাদার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ টাকার রেশন কার্ড দেওয়ার কথা বলে ১ হাজার থেকে ১৫শ টাকা, প্রতিবন্ধী কার্ড দেওয়ার কথা বলে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা, সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

তারা আরও বলেন, করোনা মহামারির কারণে জেলেদের মধ্যে ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও এই ইউপি সদস্য ফাতিমা নাসরিন চাল দিয়েছেন ৪০ কেজি করে।

এছাড়াও বিভিন্ন নামে বেনামে তালিকা তৈরি করে তিনি সরকারি বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাত করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। এবিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে মামলা/হামলাসহ বিভিন্ন হুমকি দিয়ে এলাকাবাসীকে হয়রানি করছেন ইউপি সদস্য ফাতিমা নাসরিন ও তার স্বামী মানিক হাওলাদার।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী চিনু ভানু, ইব্রাহিম, মোশাররফ, মাহাতাব, নাছিমা, লাইলীসহ গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য বিভিন্ন সময় সরকারি সহায়তা দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাত করেছে। কিন্তু সহায়তা না দেওয়ায় আমরা টাকা ফেরত চাইলে আমাদের হুমকি দিয়ে আসছে।

এই মেম্বার ও তার স্বামী মানিক হাওলাদারের দাপটে আমরা কোন কথা বলতে পারি না। আমাদের একটাই দাবি সরকারি বিধি ও নিয়ম অনুযায়ী যদি আমরা সহায়তা পাওয়ার যোগ্য হই তবে যেন আমাদের সহায়তা করা হয়। আর এই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা প্রশাসনকে একান্তভাবে অনুরোধ করছি।

তারা আরও বলেন, এবিষয়ে আমরা বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুমা বেগমের কাছে লিখিত অভিযোগ পত্র দিয়েছি। তিনি সঠিক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

ইউপি সদস্য ফাতিমা নাসরিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে বলেন, আমি এবং আমার স্বামী কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি। সমাজে আমার একটি সুনাম আছে সেটা ভ‚-লুণ্ঠিত করার জন্যে একটি কুচক্রি মহল ষড়যন্ত্র করছে।

এব্যাপারে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা আক্তার বলেন, ইউপি সদস্য ফাতিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ও আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান।

Sharing is caring!