বরগুনায় কবরের উপর দিয়ে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৬:৪১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০২০

বরগুনা প্রতিনিধি ॥
বরগুনায় পারিবারিক কবরস্থানের উপর দিয়ে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনা সদর উপজেলার ২ নং গৌরচন্না ইউনিয়নের খাজুরতলা গ্রামে।

সুমি আক্তার হালিমা অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী মৃত্যু জলিল মেকার। তার পৈত্রিক সম্পত্তি এমনকি আমার শ্বশুরেরও কবরস্থান ওইখানে। আমরা ৩ শতাংশ জমি পারিবারিক কবরস্থানে জন্য নির্ধারণ করে রেখেছি। শরিকদার যে মারা যাবে তাকে ওখানেই দাফন করা হবে। তার পার্শ^বর্তী জমি এনামুল সিকদার ও রব সিকদার ক্রয় করেন। এনামুল সিকদার আস্তে আস্তে দখল করতে করতে সেই ৩ শতাংশ পারিবারিক কবরস্থানে জন্য নির্ধারিত কবরস্থানের উপরে পাকা ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

পাশে আরেকটি মুরগির ঘরও নির্মাণ করেছেন তারা। এতে বাধা দিলে মামলা হামলা করার হুমকি দেন এনামুল। এই জমি নিয়ে, আমরা বরগুনা আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। আদালত থেকে জমির উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তাও উপেক্ষা করে তারা পাকা ঘর নির্মাণ কাজ করছেন। এনামুল শিকদারের কাজই হচ্ছে জমি দখল করা। মানুষের নামে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে জমি দখল করে আসছেন তিনি। প্রশাসনের কাছে আমার জোর অনুরোধ পূর্বপুরুষদেরকে যেখানে কবর দিয়ে আসছে সেই জমি ফিরে পেতে চাই।

এনামুল সিকদার বলেন, এখানে আমরা ১ একর ৭০ শতাংশ জমি বিভিন্ন অংশীদারের নামে ক্রয় করেছি। আমরা কবরের জমি রেখে তার পাশ দিয়ে পাকা ঘর নির্মাণ করছি। আমাদের জমি বুঝিয়ে দিলে আর কোন ঝামেলা থাকে না।

স্থানীয় শানু ও দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা সেই দীর্ঘ ৪০ বছর থেকে দেখে আসছি এখানে মধু পাগল, আফেজ উদ্দিন মেকার গংদের কবর দিয়ে আসছে। চারিদিকে এতো পরিমাণ ঘর নির্মাণ হয়েছে এখন কবরই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গত কয়েকদিন যাবৎ দেখছি এনামুল সিকদার কবরের উপর দিয়ে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করছেন। আমাদের বোধগম্য হয় না যে কিভাবে কবরের উপর দিয়ে একটি ঘর নির্মাণ করেন।

এ ব্যাপারে বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন হালিমা বেগম। আমরা সেই প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলি। সুষ্ঠু ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঘর নির্মাণ করতে পারবেন না।