বরগুনার সেই ইউএনও ও যুবলীগ নেতার মধ্যে বিরোধের শেষমেশ শান্তিপূর্ণ সমঝোতা

প্রকাশিত: ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২০

তরিকুল ইসলাম রতন, বরগুনা প্রতিনিধি  ::

বরগুনার আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও যুবলীগ নেতার মধ্যে বিরোধের শেষমেশ শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় এলাকার জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

আমতলী উপজেলা ইউএনও মনিরা পারভীন এবং আমতলী পৌর যুবলীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাড. আরিফুল হাসানের মধ্যে বিরোধ এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিলো।

রোববার (১৬ ই আগষ্ট) বেলা ১২ টা থেকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা হয়।
এই বৈঠকে সংসদ সদস্য আ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ, পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, যুবলীগ সভাপতি এ্যাড, কামরুল আহসান মহারাজ, আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার ফোরকান, আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আঃ রহমান নান্টু, সম্পাদক মাহবুবুল বারী আসলাম, আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ্যাডভোকেট আঃ কাদের উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এসময়ে আমতলীর ইউএনও মনিরা পারভীন উপস্থিত ছিলেন না।

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ ইউএনও বনাম আ্যাডভোকেট আরিফুল হাসানের বিরোধের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উভয় পক্ষের সম্মানজনক সমাধান হয়েছে। ধৈর্য আর সহনশীলতার সাথে পারস্পরিক সম্মান দিয়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে বলা হয়েছে।

এসময়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, আজ জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইনজীবীদের সমন্বয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনার মাধ্যমে ইউএনওর সাথে যুবলীগ নেতা আইনজীবীর সৃষ্ট ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।
আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ্যাডভোকেট আরিফুল হাসানের বাবা অ্যাডভোকেট আঃ কাদের বলেন, বিষয়টি সম্মানজনক ভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। আগামী বুধবার আরিফের জামিনের জন্য আমরা আদালতে আবেদন করবো।

ইউএনও বনাম আইনজীবীর মধ্য সৃষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনার নিষ্পত্তি হওয়ায় আমতলীর বিশিষ্ট নাগরিকরা স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন ও জনগণ কখনো মুখোমুখি অবস্থান নিলে এলাকার শান্তি বজায় থাকেনা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে ভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে সেখানে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরো সহনশীল হওয়া প্রয়োজন বলে নাগরিকরা মনে করেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট যুবলীগ নেতা অ্যাড. আরিফুল হাসান তার সহকর্মীকে লঞ্চে এগিয়ে দিতে গেলে আমতলীর ইউএনও মনিরা পারভিন এর সাথে দেখা হয়। তখন ইউএনও মনিরা পারভিনকে আরিফ ছালাম দেন। এতে ইউএনও ক্ষুব্ধ মন্তব্য করলে আরিফের সাথে বাগ্বিতÐা হয়। এক পর্যায়ে আরিফকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে আটক করে ২৮ ঘণ্টা আমতলী থানায় রাখা হয়।

পরে ইউএনও বাদী হয়ে আরিফসহ আরও দুজনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমতলীতে ইউএনও এর বিরুদ্ধে বরগুনার টাউনহল চত্বরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, জেলা আইনজীবী সদস্য, বিভিন্ন সামাজিক, সুশীল সমাজ, জেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। তাছাড়া তারা আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে আরিফকে মুক্তি না দিলে পরবর্তীতে বৃহৎ কর্মসূচিরও ঘোষণা দেন।

Sharing is caring!