ববি কর্মকর্তা পরিষদের নির্বাচন : ভঙ্গ হচ্ছে আচরণবিধি

প্রকাশিত: ৯:৫৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২১

শফিক মুন্সি ॥ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কর্মকর্তা পরিষদের আলোচিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হাতে বাকি মাত্র একদিন। শেষক্ষণে এসে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে আচরণ বিধি ভঙ্গের। বিশেষ করে এক প্রার্থী অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা বিষোদগার করছেন এমন দাবি অনেকের। তবে করোনা পরিস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে নান্দনিক সব পদক্ষেপ নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৮ জানুয়ারি সকালে শুরু হবে ভোটগ্রহণ। দিনটিতে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য বিধি যেন অনুসরণ করা হয় সেদিকে বিশেষ নজর কমিশনের। মাস্ক ছাড়া ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না কোন ভোটার এমন নির্দেশনা জারি হয়েছে ইতোমধ্যে। এছাড়া স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এবার ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভোট চাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

 

তবে কিছু প্রার্থী এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন কর্মকর্তা। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কয়েকজন প্রার্থী ভোট চাইতে ভোটারের বাড়িতে হানা দিচ্ছেন। এমনকি চায়ের দাওয়াত দিয়ে বাড়ির বাইরে ডেকে নিচ্ছেন। যা করোনাকালীন পরিস্থিতিতে বেশ বিব্রতকর ভোটারদের জন্য। অন্যদিকে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেলো প্রার্থীদের মধ্যে থেকেই। সভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা তীব্রভাবে অভিযোগের তীর ছোড়েন তাদের বিপরীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব প্রার্থী জানান, তাদের বিপরীত প্রার্থী ভোট আদায়ে নেমে অন্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন। কেউ আঘাত হানছেন ধর্ম বিশ্বাসের ওপর কেউবা সাম্প্রদায়িকতার ওপর। কেউ কেউ মনগড়া দুর্নীতির কাহিনী সাজিয়ে ঘায়েল করতে চাচ্ছেন প্রতিপক্ষকে। তবে এসব অভিযোগ লিখিত আকারে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে সবাই অনীহা প্রকাশ করেছেন।

 

এদিকে প্যানেল নির্বাচন না হলেও অঘোষিত প্যানেল নিয়ে সোচ্চার কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গ্রুপের সদস্যরা। তারা বিভিন্ন পদে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের একগুচ্ছ লিফলেট বিতরণ করছেন ভোটারদের মাঝে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য হাতেনাতে ধরেন একজন সমর্থককে। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ঐ কর্মকর্তাকে মৌখিক ভর্ৎসনা করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

তবে সকল জটিলতা কাটিয়ে সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস এম আরাফাত শাহরিয়ার জানান, নির্বাচনকে স্বচ্ছ – নিরপেক্ষ এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে উৎসবমুখর করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিগত দিনে নির্বাচনী যে সংস্কৃতি সেখানে ছিল এবার তার ব্যতিক্রম কিছু ঘটছে বলেও জানান তিনি। তবে সবাইকে নির্বাচনী আচরণ বিধি যথাযথভাবে পালনের আহবান জানিয়েছেন এই কমিশন প্রধান। অন্যদিকে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দিয়ে কমিশনের সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ কিছু কিছু দৃষ্টিকটু বিষয় আমাদের সামনে এসেছিল। সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে মৌখিকভাবে নিষেধ করা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। তবে গুরুতর ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ এলে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন ‘। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে নির্বাচন যেন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

 

উল্লেখ্য, গত দুমাস যাবৎ প্রতিষ্ঠানটিতে এই নির্বাচনকে ঘিরে চলছে একের পর এক নাটকিয়তা। প্রথমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলেও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহ কমিশনের আরেকজন সদস্য। পরবর্তীতে আরাফাত শাহরিয়ার কে প্রধান করে পুনঃগঠিত হয় কমিশন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন দিতে বিলম্ব হলে শুরু হয় আলোচনা – সমালোচনা।