বদলে গেছে বানারীপাড়া ও উজিরপুরের গ্রামীণ জনপদ…

প্রকাশিত: ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

রাহাদ সুমন, বানারীপাড়া প্রতিনিধি ॥ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনারবাংলা ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১’র স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশ জুড়ে চলমান উন্নয়ন ও অগ্রগতির মহা কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে বরিশালের বানারীপাড়া ও উজিরপুরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের গত প্রায় এক যুগে বরিশালের এ দু’ উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছে এবং চলমান রয়েছে। উন্নয়নের ছোঁযায় গ্রামীণ জনপদ এখন অবয়বে শহুরে জনপদে রূপ নিয়েছে। ফলে চোখে পড়ার মতো সরকারের এ উন্নয়নের জয়গান এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে আওয়ামীলীগ দলীয় তৎকালীন সংসদ সদস্য মোঃ মনিরুল ইসলাম মনি উন্নয়নের মহা পরিকল্পনা তৈরী করে তার নির্বাচনী এলাকা এ দু’উপজেলায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু করেন। যার সিংহভাগ কাজ তার মেয়াদে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং গত প্রায় এক যুগ ধরে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।

উজিরপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করে অবহেলিত বন্দর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করার মধ্য দিয়ে পৌর শহরের সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে। বানারীপাড়া পৌরসভায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতল পৌর ভবন নির্মাণ, সন্ধ্যা নদীর তীরে বাঁধের আদলে ব্রিজ সহ বৃহৎ আকারের রাস্তা ও ওয়াটার সাপ্লাই চালু করা, কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ মাঠ কেন্দ্রীয়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, প্রেসক্লাবের ভবন, গোরস্থান ও শ্মশান ঘাট এবং রাস্তা-ঘাট, ড্রেন, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণসহ পৌর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। ১০ কোটি টাকার অধিক ব্যয়ে (প্রতিটি ৫ কোটি টাকার ওপরে) বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

বানারীপাড়ার লবণসাড়া গ্রামে ১০ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফা বঙ্গবন্ধুর আমলে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালক প্রয়াত মুন্সী সরোয়ার হোসেনের নামে নির্মাণ করার পাশাপাশি প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বানারীপাড়া ও উজিরপুর সহ পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার মানুষ অতি সহজ পথে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধী সৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে যেতে পারেন সেজন্য সংসদ সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম মনি জাইকা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৬ শত কোটি টাকা ব্যয়ে বানারীপাড়ার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের বাইশারী ইউনিয়নের শিয়ালকাঠি থেকে দুর্গম ইউনিয়ন বিশারকান্দি পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ৯৮ টি ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করেন।

এছাড়া কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে উজিরপুর শহর থেকে ধামুড়া-হারতা-সাতলা-কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া সড়ক পাকাকরণ ও অসংখ্য ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতলা নদীতে ১২০ কোটি ও হারতা নদীতে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহৎ আকারের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। বানারীপাড়ার বিশারকান্দি ইউনিয়নের চৌমোহনা বাজার সংলগ্ন নদীতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণ ও অর্ধ শত কোটি টাকার ওপরে ব্যয়ে বানারীপাড়ার বাইশারী ইউনিয়নের শিয়ালকাঠি ফেরি ঘাট থেকে উদয়কাঠি ইউনিয়ন হয়ে বিশারকান্দি ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রশস্ত কার্পেটিং রাস্তা ও অসংখ্য ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। বিশারকান্দির চৌমোহনা ব্রিজসহ এ রাস্তা নির্মাণের ফলে বরিশালের উজিরপুর-আগৈলঝাড়া, পিরোজপুরের নাজিরপুর, গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার সঙ্গে বানারীপাড়ার সেতুবন্ধন সৃষ্টি হবে।

এছাড়াও বানারীপাড়া ও উজিরপুরে শতাধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা এবং কলেজে বহুতল ভবন ও সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে এবং বেশ কিছু ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এ দুই উপজেলায় প্রায় কয়েকশ’ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। গত প্রায় এক যুগে এ দুই উপজেলায় কমপক্ষে দুই শতাধিক ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কের রায়ের হাটে আধুনিক ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। বানারীপাড়ার সন্ধ্যা নদীর ওপর স্বপ্নের সেতু নির্মাণ ও বিশারকান্দিতে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র ও চাখারে শের-ই-বাংলা হাইটেক পার্ক স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই ও স্থান নির্ধারণের প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

এছাড়াও মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, চার্চ, প্যাগোডা, ক্লাব সহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ দু’উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হয়েছে। ২০০৯ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম মনি’র আমলে শুরু হওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ২০১৪-১৮ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখেন সংসদ সদস্য ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস। সেই ধারাবাহিকতায় এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাহে আলম বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলাকে আরও উন্নত,সমৃদ্ধ আলোকিত উপজেলায় রূপান্তরের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব দপ্তর শতভাগ ডিজিটালাইজড করাসহ উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

সম্প্রতি বানারীপাড়া ও উজিরপুর পৌর শহরে আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া চাখার সরকারি ফজলুল হক কলেজে ৬তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। বানারীপাড়া পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ভাস্কর্য (ম্যুরাল)নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরে ঘরে ফ্রি সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের পরে এখন বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কের উজিরপুরের গুঠিয়া থেকে বানারীপাড়ার বিশারকান্দি ইউনিয়ন পর্যন্ত ও উজিরপুরের ইচলাদি থেকে সাতলা ইউনিয়ন পর্যন্ত সড়কে স্ট্রিট লাইট স্থাপনের কাজ চলছে। এর ফলে দু’উপজেলার পৌর শহর সহ ১৭ টি ইউনিয়ন আলোকিত হবে এবং এলাকাবাসী রাতের বেলায় সৌরবাতির আলোয় নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারবেন। এদিকে বরিশালের এ দু’উপজেলায় যে পরিমাণ দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়েছে তা অনেক প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের এলাকায়ও হয়নি। আওয়ামীলীগ সরকারের দৃষ্টিকাড়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুনাম এখন এ এলাকার মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে।