বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা : রাষ্ট্রীয় সম্মাননা চান না দুমকির মুক্তিযোদ্ধা মজনু মিয়া

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২১

এম আমির হোসাইন, দুমকি প্রতিনিধি ॥ মুক্তিযোদ্ধাদের আকাঙ্খা মৃত্যুর পর যেন তাদেরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। কিন্তু পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজা ওয়ালিউল হক’র চাওয়া-পাওয়া ব্যতিক্রমধর্মী। মৃত্যুর পর তিনি গার্ড অব অনার (রাষ্ট্রীয় সম্মান) নিতে চান না। তবে তিনি যে কিছুই নিতে চান না এমনটি নয়। মৃত্যুর পর তার গোরস্থান ও তৎসংলগ্ন বাড়ীর মসজিদটি সরকারীভাবে উন্নয়নের দাবী জানিয়েছেন প্রবীণ এ বীর মুক্তিযোদ্ধা।

 

অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা রাজা অলিউল হক (মজনু মিয়া)’র বাড়ী উপজেলার জলিশা গ্রামে। সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল এ মুক্তিযোদ্ধা তার স্ত্রী, কন্যা ও নাতিকে নিয়ে বর্তমানে উপজেলা শহরের একটি ভাড়া বাসায় জীবন যাপন করছেন। পৈত্রিক ভিটি থাকলেও বসবাসের উপযোগী ঘর না থাকায় ভাড়া বাসায় থাকছেন। জীবন সায়াহ্নে এসে তার মনের শেষ ইচ্ছাটুকু এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করলেন তিনি।

 

সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বক্তব্যে ক্ষোভের সাথে ৭১’র রণাঙ্গনের সম্মুখ যোদ্ধা বলেন, ‘বাঙালী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে জীবন বাজি রেখে ৭১’এ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। ৭৫’র ১৫ আগস্ট সেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে এবং ৩ নভেম্বর জেলখানার অভ্যন্তরে জাতীয় চারনেতাকে ঘাতকরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধুকে গোপালগঞ্জের নিভৃত গ্রামে ৫৭০ সাবান দিয়ে গোসল করিয়ে মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ জানাজা দিয়ে দাফন করেন।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও জাতীয় চার নেতাকে যেহেতু রাষ্ট্রীয় সম্মান দেয়া হয়নি, তাই আমার মতো একজন নগণ্য ব্যক্তির রাষ্ট্রীয় সম্মান গ্রহণের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না’। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়া এ বীর মুক্তিযোদ্ধা নিঃশ্বাস ছেড়ে বলেন, ঘাতকদের এখনও যারা পলাতক-অবিলম্বে তাদেরকে দেশে এনে রায় কার্যকর দেখতে পেলে আত্মা শান্তি পেত।