বগুড়ায় হাফেজ কর্তৃক ধর্ষণে শিশু ছাত্রী তিন মাসের অন্ত: সত্ত্বা

প্রকাশিত: ১:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২০

এমদাদুল হক, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি :: বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়নের দারিয়াপুর গ্রামে এক হাফেজের ধর্ষণে পঞ্চম শ্রেণির এক শিশু ছাত্রী তিন মাসের অন্ত: সত্ত্বা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক তে‍ালপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি। এ ঘটনা পর থেকে হাফেজ রুহুল কুদ্দুস পলাতক রয়েছে।

জানা গেছে, ওই শিশু এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। সে প্রতিদিন সকালে এলাকার অন্য শিশুদের সঙ্গে গ্রামের হাফেজ রুহুল কুদ্দুস (৫৫) এর বাড়িতে আরবি পড়তে যায়। ঘটনার দিন হাফেজের বাড়িতে পরিবারের লোকজন কেউ ছিল না। পড়াশেষে সবাইকে ছুটি দিয়ে শিশুটিকে পড়া ধরবেন বলে হাফেজ রুহুল কুদ্দুস তাকে বসতে বলে। অন্য শিশুরা চলে যাওয়ার পর লম্পট হাফেজ তাকে ধর্ষণ করে। মেয়েটি চিৎকার করতে থাকলে তার মুখে কাপড় চাপা দিয়ে তাকে ধর্ষণ করে ওই লম্পট। এক পর্যায়ে ধর্ষণের কথা কারো কাছে বললে তাকে মেরে ফেলা হবে বলে শিশুটিকে শাসিয়ে বিদায় দেয়। শিশুটি ভয়ে পরিবারের কাউকে ওই ঘটনার কথা জানায়নি।

গত কয়েকদিন আগে ওই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বাবা-মা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। গত ৪ জুলাই নন্দীগ্রাম হেলথ কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে শিশুটির আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। ওই রিপোর্টে মেয়েটিকে তিন মাসের অন্ত: সত্ত্বা বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক তেলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এখন এলাকাবাসির। একপর্যায়ে গত ৮ জুলাই গ্রামের মাতব্বর এনামুল হক, এসরাক আলীর নেতৃত্বে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধাপাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। তবে শিশুর বাবা রাজি হয়নি।

এবিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত কবির বলেন, শিশু শিক্ষার্থী অন্তঃসত্বা ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। হাফেজ রুহুল কুদ্দুসকে গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে।