বগুড়ার ফুড ভিলেজ রেস্টুরেন্টের ২৬ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি

প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

এমদাদুল হক, বগুড়া প্রতিনিধি:

এসআর গ্রুপের দুই হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট ফুড ভিলেজ লিমিটেড ও ফুড ভিলেজ প্লাস। দুইটি রেস্টুরেন্ট দীর্ঘদিন ধরে বিক্রয় তথ্য গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে। দুইটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ কোটি টাকার বিক্রয় তথ্য গোপন করে প্রায় সাড়ে ২৬ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছে মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সম্প্রতি ভ্যাট গোয়েন্দার বিশেষ অভিযানে ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভ্যাট গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, এসআর গ্রুপের দুইটি হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে। দুইটি প্রতিষ্ঠান হলো-ফুড ভিলেজ লিমিটেড, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বগুড়ার শেরপুর। অন্যটি ফুড ভিলেজ প্লাস। একই মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে অবস্থিত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৪ সেপ্টেম্বর ভ্যাট গোয়েন্দার উপ-পরিচালক নাজমুন্নাহার কায়সার ও ফেরদৌসী মাহবুব এর নেতৃত্বে একটি দল নিকুঞ্জ-১ এলাকার এসআর গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক হিসাবপত্র জব্দ করে। এসব জব্দকৃত কাগজপত্র যাচাই করে ভ্যাট গোয়েন্দার দল দেখতে পায় উত্তরবঙ্গে প্রতিষ্ঠানের দুটো হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করছে।

দুটো রেস্টুরেন্টে প্রকৃত বিক্রয় গোপন করা হয়েছে মোট ১৯৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ভ্যাট রিটার্নে এসআর গ্রুপ প্রায় ৭২% তথ্য গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। এই অসৎ উপায়ে তথ্য গোপন করায় সরকার এই দুই রেস্টুরেন্ট থেকে ২৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকার ভ্যাট থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
রেস্টুরেন্ট দুটো মূলত ঢাকা-রংপুর হাইওয়েতে বাসের যাত্রীদের খাবার পরিবেশন করে। এতে নন-এসি, এসি ডিলাক্সে খাবার বিক্রয় এবং একটি কর্ণারে মিষ্টি ও মিষ্টি জাতীয় পণ্য বিক্রি করা হয়। ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে দুইটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এই অভিযানে দুইটি ছাড়াও দি গ্রেট কাবাব ফ্যাক্টরি, সুং ফুড গার্ডেন, এসআর ট্রাভেল ও পার্সেলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্রও আটক করা হয়। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট ভ্যাট রিটার্নের সাথে আড়াআড়ি যাচাই করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

 

Sharing is caring!