ফয়েজ আহমেদ রেজা’র টেলিছবি বান্দাল’র শ্যুটিং সম্পন্ন

প্রকাশিত: ১১:০৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে বেশ কয়েকদিন পূর্বে টেলিছবি ‘বান্দাল’র শ্যুটিং সম্পন্ন হয়েছে। মুস্তাফিজুর রানার প্রযোজনায় নির্মিত বান্দালের পরিচালনায় রয়েছেন গুণী নির্মাতা ফয়েজ আহমেদ রেজা। এই টেলিছবি রচনা করেছেন আব্দুল্লাহ জহির বাবু। এতে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল, এ্যালেন শুভ্র, সিয়াম নাসের, মারিয়া, শিল্পী সরকার অপু, মাহমুদুল মিঠু, ইকবাল, সুজন সাহেদ প্রমুখ।

 

এ গল্পে এ্যালেন শুভ্রকে তারেক ও কেয়া পায়েলকে সেজিন চরিত্রে দেখা যাবে। এই টেলিছবিতে দেখা যাবে বেডরুমের ভিতরে একজন চল্লিশোর্ধ্ব মহিলা আলমারি খুলে তার ভিতরে কিছু করছেন। পিছনে তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে একটা ছায়ামূর্তি। মহিলা লক্ষ করছেন না। দুই হাতে গামছা নিয়ে মহিলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ছায়ামূর্তি। হঠাৎ করেই পিছন থেকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরে হত্যাকারী। মহিলা নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে থাকেন কিন্তু কিছুক্ষণ পরে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। গামছা খুলে ফেলে আততায়ী। মহিলার লাশ পড়ে থাকে পাশের বিছানার উপর.. এ স্বপ্নটা দেখে প্রায়ই ঘুম ভাঙে তারেকের। স্বপ্নে দেখা খুনি কিম্বা খুন হওয়া মহিলা কাউকে চিনতে পারে না তারেক তবে চেনা চেনা লাগে।

তারেক পড়াশোনার জন্য ঢাকায় পাপ্পুকে নিয়ে ফ্ল্যাট বাসায় ভাড়া থাকে। তার বাবা রশিদ কন্ট্রাক্টর থাকেন মোহনগঞ্জের মেইন শহরে। সেখানে চারতলা বাড়ি চকচইক্কা গাড়ি সব কিছুই আছে তার। অন্যদিকে সেজিনও পড়াশোনার জন্য ঢাকায় রুম শেয়ার করে থাকছে সামান্থাকে নিয়ে। তারেকের রুমমেট পাপ্পু নিজের ছবির বদল তারেকের ছবি দিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলে। অন্যদিকে সেজিনের রুমমেট সামান্থা নিজের ছবির বদলে সেজিনের ছবি দিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলে। পাপ্পু সেজিনের ছবি দেখে প্রেমে পড়ে অন্যদিকে সামান্থা তারেকের ছবি দেখে প্রেমে পড়ে। অথচ তারেক সেজিন জানে না তাদের ছবি ব্যবহার করে প্রেম করছে ওরা। রেস্টুরেন্টে প্রথম দেখা করতে যাওয়া নিয়ে বাধে হট্টগোল। পরিশেষে নিরুপায় হয়ে পাপ্পু তারেককে ছবি ব্যবহার করে প্রেম করার বিষয়টি শেয়ার করে। শুনে প্রথমে তারেক রেগে যায় কিন্তু পরে পাপ্পুর রিকোয়েস্টে সেজিনের সাথে রেস্টুরেন্টে দেখা করতে রাজি হয়।

 

পাপ্পু ইতিমধ্যে ১৮ বার ছ্যাঁকা খেয়েছে তাই ১৯ নাম্বার প্রেম করার জন্য নিজের ছবি দিয়ে রিস্ক নেয় নি। অন্যদিকে সামান্থার এক্স বয় ফ্রেন্ড বার বার তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তাই নিরুপায় হয়ে সেজিনের ছবি দিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলো সে। এসব কথা শুনে তারেক ও সেজিন রেস্টুরেন্টে হাসে। এভাবেই তারেক সেজিনের পরিচয়। সেই থেকে শুরু। সেজিনকে অসহায় হতদরিদ্র মানুষের জন্য কিছুনা কিছু করবার নিরলস প্রচেষ্টা করতে দেখে তরেকের ভীষণ ভালো লাগে। ঘটনা ক্রমে জানতে পারে ওরা একই গ্রামের। সেজিনের বাবা আহসান মাস্টার কে চিনতে পারে তারেক। ধীরে ধীরে দুজনের সখ্যতা গড়ে ওঠে। এভাবেই এগিয়ে চলে গল্প।

 

হঠাৎ একদিন রাস্তায় সেজিনের গ্রামের সালমা চাচীর দেখা পায়। গ্রামের এত বড় গৃহস্থকে রাস্তার অচেনা মানুষদের কাছে হাত পাততে দেখে অবাক হয় সেজিন। ক্লান্ত দেহে সালমা বেগম সেজিনকে পেয়ে জ্ঞান হারায়। সেদিন সালমা চাচীকে বাসায় নিয়ে আসে সেজিন। পরিচয়ে তারেক একই গ্রামের শুনে খুশি হয় সালমা কিন্তু রশিদ কন্ট্রাক্টর এর ছেলে শুনেই রেগে যায় সালমা বেগম। নিজ হাতের স্যালাইনের সুই খুলে ফেলে বেরিয়ে যেতে নেয় সালমা বেগম। সালমা বেগমের মুখে শুনে আসা বাবার অপকর্মের কথা কোন ভাবেই মানতে পারে না তারেক তাই বাবা রশিদ কন্ট্রাক্টরের কাছে জানতে চায়- রসুলপুরের মানুষের ঢল ঢাকায় কেন? রসুলপুর বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ তার বিরুদ্ধে কেন? লোকাল থানায় তার বিরুদ্ধে কমপ্লেইন করতে গেলে সালমা চাচীর স্বামী আর ঘরে ফিরে নাই কেন?

এ সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে টেলিছবি “বান্দাল” এ। মিলবে তারেকের জীবন অতিষ্ঠ করে দেয়া সেই স্বপ্নটা দেখার কারণ। এই টেলিছবিটি শীঘ্রই দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক ফয়েজ আহমেদ রেজা।