ফেসবুকের স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে কলাপাড়ায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সশস্ত্র সংঘাত

প্রকাশিত: ১২:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২০

কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সশস্ত্র হামলা পাল্টাহামলা ছুরিকাঘাতের ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। কলাপাড়ার ধানখালী কলেজ বাজারে মঙ্গলবার দুপুরের এ ঘটনায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই ঘটনায় ইউনিয়ন ধানখালী কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি বাইতুল ইসলাম দোলন (২৮), ছাত্রলীগ নেতা আশিক মামুদ হীরা (২৪) ও ছাত্রলীগ কর্মী শিমুল গাজী (২১) কে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

আহত দোলন জানান, রোববার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাঁচ জুনিয়া যুব ও ছাত্র কল্যাণ সংসদে হামলা চালান চম্পাপুর এলাকার তানিম মোল্লা, আলমগীর মোল্লা, তন্ময় তালুকদার, কাওসার, রিয়াদ, লিমন ও নিপু তালুকদার। এ ঘটনা নিয়ে তারা বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

স্ট্যাটাসে একই এলাকার আমির মৃধা ও মামুন মৃধা কমেন্টস করেন। এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কমেন্টস আদান প্রদান হয়। মঙ্গলবার দুপুরে দোলনসহ তার দুই সহযোগী হীরা ও শিমুল গাজী কলেজ বাজার এলাকায় পৌঁছলে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালান আমির মৃধা, জয়নাল মৃধা ও মামুন মৃধাসহ প্রায় ১০/১২ জন। এসময় হীরার পেটে ছুরিকাঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

তবে অভিযুক্ত জয়নাল মৃধার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ওরা কলেজ বাজার এলাকায় এসে তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছেন। তাই এ ঘটনা ঘটেছে।

কলাপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. অনুপ জানান, আহতদের মাথায় পেটে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা চলছে।

কলাপাড়া থানার (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। তবে এঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে পাখিমারায় অবৈধ গরুর হাটের টোল কালেকশন নিয়ে কলাপাড়া পৌর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ সশস্ত্র মুখোমুখি হলে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড না থাকায় হাট-বাজার, খেয়াঘাটের ইজারা, বালুর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, জমিজমার সালিস বাণিজ্য, দখল কাজে অংশ নেয়া নিয়ে নব্য হাইব্রিড গ্রুপগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এদের কারণে গ্রামীণ জনপদ তপ্ত হয়ে আছে। এমনকি বালুর ব্যবসার ব্যক্তিগত ছোট্ট ঘর কিংবা ক্লাবঘরে, আড্ডাস্থলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি পর্যন্ত এরা টানিয়ে তা ভেঙে ফেলার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।